৫ বছর জেল, কোটি টাকার জরিমানা! মোদির আশ্বাসের পরই প্রশ্নফাঁসে কড়া আইনের পথে কেন্দ্র
প্রতিদিন | ২৪ জুলাই ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছিলেন। সেই মতোই এবার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁসের জেরে ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হচ্ছে। সেই সঙ্গে অন্তত ১০ লক্ষ টাকার জরিমানাও গুণতে হবে বলে শোনা যাচ্ছে। শুক্রবারই ক্যাবিনেট বৈঠক রয়েছে। সেখানে আইন সংশোধনের এই নতুন প্রস্তাবগুলি পাশ করানো হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সাফ জানিয়ে দেন, তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেললে রেহাই মিলবে না। তিনি বলেন, “আমি জানি, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি কোনও সাধারণ বা তুচ্ছ বিষয় নয়। এটি লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও কষ্টদায়ক। তাই, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর গত আড়াই মাসে বেশ কিছু আইনি পদক্ষেপ করা হয়েছে। দোষীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা এখন কারাগারে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ যাতে নষ্ট না হয় সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।” জানিয়েছিলেন, প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া আইন আনছে তাঁর সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর পূর্ব ঘোষণা মতো প্রশ্ন ফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরি হয়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। সূত্রের খবর, এবার পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪-এ সংশোধনের কথা ভাবছে মোদি সরকার। দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা-এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে সংশোধিত আইনে। যেসমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে। শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাশ হলেই এই সংশোধনী পেশ হবে সংসদে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। আন্দোলনকারীদের দাবি ছিল, জেপি নাড্ডার বাড়ি বা দপ্তর নয়, আলোচনা হোক নিরপেক্ষ স্থানে। সেই দাবি মেনে কনস্টিটিউশন ক্লাবে বৈঠক হবে। সেখান থাকতে পারেন নাড্ডা স্বয়ং। মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংও থাকতে পারেন এই আলোচনায়। তবে এই নিয়ে সংসদে কবে আলোচনা হবে, তা এখনও স্থির হয়নি।