৪ ঘণ্টার শাহী বৈঠক! কোন ‘স্ট্র্যাটেজি’তে সোনমের অনশন ভাঙাল কেন্দ্র
প্রতিদিন | ২৪ জুলাই ২০২৬
২৬ দিন। দীর্ঘ সময় ধরে সারা দেশের আলোচনায় ছিল সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে তাঁকে খাইয়ে দেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। শেষ হয় তাঁর দীর্ঘ উপবাস। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, কোন ‘স্ট্র্যাটেজি’তে সোনমের অনশন ভাঙাল কেন্দ্র? জানা যাচ্ছে, গতকালই চারঘণ্টার একটি বৈঠক হয়। যার নেতৃত্বে ছিলেন অমিত শাহ। সেই বৈঠককেই ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
জানা যাচ্ছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেন সিনিয়র কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে। জিতেন্দ্র বাসভবনেই ওই বৈঠক হয়। এক সংবাদমাধ্যমের সূত্রানুসারে জানা গিয়েছে, ওই বৈঠকেই ঠিক হয় সদর্থক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই এগনো হোক। সোনমের স্বাস্থ্য ও ভালো থাকাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ পেয়ে জিতেন্দ্র সিং সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমোর সঙ্গে কথা বলেন। এবং তাঁকে আশ্বস্ত করেন যে, ওই সমাজকর্মীর উত্থাপিত বিষয়গুলির সমাধানে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি তাঁকে অনুরোধ করা হয় তিনি নিজে যেন সোনমকে আর্জি জানান অনশন ভাঙার। পরে রাতের দিকে নাড্ডা ও জিতেন্দ্র মেদান্ত হাসপাতালে গিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে দেখা করেন সোনমের সঙ্গে। এবং তাঁকে কেন্দ্রের তরফে দেওয়া চিঠিটি পৌঁছে দেন। তাতে ওই সমাজকর্মীকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। এতেই বরফ গলে। অনশনে রাজি হন সোনম।
নিট প্রশ্ন ফাঁসের জবাবদিহি চেয়ে এবং শিক্ষা ব্যবস্থায় বদলের দাবিতে গত ২৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তর আমরণ অনশন শুরু করেন সোনম। পাশে পান ককরোচ জনতা পার্টিকে। সেই আন্দোলনই ধীরে ধীরে বড়সড় বিদ্রোহের রূপ নেয় রাজধানীর বুকে। অবশেষে হাসপাতালে চিকিৎসারত সোনম অনশন ভাঙলেন।
গতকাল রাতে সোনমের অনশন ভাঙার খবর পেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘সোনমজিকে অনুরোধ জানাই তিনি যেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে চলেন। দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে ফিরুন, তাঁর স্বাভাবিক ওজন ফিরে আসুক। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি সোনমজি যেন সুস্থ থাকেন।’ অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টিও স্বাগত জানিয়েছে অনশন ভঙ্গের সিদ্ধান্তকে। তাদের মতে, ‘সোনম স্যর অনশন ভেঙেছেন সেটা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তির। নিজের জীবন বাজি রেখে গোটা দেশের চেতনাকে তিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন। আমাদের দেশের জন্য আপনার প্রাণ অত্যন্ত মূল্যবান।’