‘উত্তম-মুহূর্তের’ স্মৃতিধন্য ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি, পর্যটকদের জন্য খুলে দিতে উদ্যোগী বিধায়ক
প্রতিদিন | ২৪ জুলাই ২০২৬
আজ, ২৪ জুলাই মহানায়ক উত্তম কুমারের ৪৬ তম মৃত্যুবার্ষিকী। এত বছর পরও তাঁকে ভোলেনি জঙ্গলমহলের ঝাড়গ্রাম। উত্তম-স্মৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে ঝাড়গ্রাম। সত্তরের দশকে একাধিক ছবির শুটিংয়ের সূত্রে বারবার এই জেলায় এসেছিলেন তিনি। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির অতিথিশালা, সরডিহা রেলস্টেশন, শহরের ঐতিহ্যবাহী রেস্তোরাঁ থেকে বেলপাহাড়ির প্রকৃতি-সব মিলিয়ে ঝাড়গ্রামের সঙ্গে গড়ে উঠেছিল মহানায়কের এক নিবিড় আত্মিক সম্পর্ক। আর এই প্রসঙ্গেই ঐতিহ্যবাহী ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ির ( Jhargram Rajbari) গেট যাতে উন্মুক্ত করা হয়, সেই জন্য ঝাড়গ্রামের বিধায়ক ইতিমধ্যেই মল্লদেব রাজবাড়ি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করেছেন।
উল্লেখ্য, ঝাড়গ্রামে মহানায়ক উত্তম কুমারের প্রথম শুটিং হয় ‘মরুতীর্থ হিংলাজ’ ছবির জন্য। পরে ‘সন্ন্যাসী রাজা’, ‘বাঘবন্দি খেলা’ এবং ‘রাজবংশ’-সহ একাধিক ছবির গুরুত্বপূর্ণ অংশের দৃশ্যগ্রহণ হয় ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ও তার আশপাশে। দীর্ঘদিন ধরে শুটিং চলায় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তাঁর সহজ ও আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। রাজবাড়ির অতিথিশালায় তিনি থাকবেন শুনলেই এক ঝলক দেখার আশায় ভিড় জমাতেন অসংখ্য অনুরাগী। ‘বাঘবন্দি খেলা’ ছবির শুটিংয়ের সময় সরডিহা রেলস্টেশনও হয়ে উঠেছিল আকর্ষণের কেন্দ্র।
প্রবীণ বাসিন্দাদের স্মৃতিতে এখনও ভাসে সেই দিনগুলি। ট্রেন থামলেই মহানায়ককে একবার দেখার জন্য প্ল্যাটফর্মে ভিড় উপচে পড়ত। আজও লোকমুখে গল্প হয়ে বেঁচে আছে। ঝাড়গ্রামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে তাঁর রসনাবিলাসের স্মৃতিও। শহরের ঐতিহ্যবাহী অশোকা রেস্তোরাঁর আফগানি কাটলেট ও মটন কাটলেট ছিল তাঁর বিশেষ প্রিয়। শুটিং চলাকালীন প্রায়ই সেই রেস্তোরাঁ থেকে রাজবাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়া হত। আজও সেই কাহিনি রেস্তোরাঁর ঐতিহ্যের অংশ হয়ে রয়েছে। যদিও এখন নিয়মিত সেই কাটলেট আর তৈরি হয় না। সময়ের সঙ্গে শুটিংয়ের অনেক স্থান বদলে গিয়েছে, হারিয়ে গিয়েছেন বহু প্রত্যক্ষদর্শী।
তবু রাজবাড়ির অলিন্দ, সরডিহা স্টেশন কিংবা শহরের পুরনো আড্ডায় আজও ফিরে আসে মহানায়কের স্মৃতি। এবিষয়ে ঝাড়গ্রামের বিধায়ক লক্ষ্মীকান্ত সাউ বলেন, “বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে ঝাড়গ্রামের যে বিশেষ স্থান রয়েছে, তা আগামী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এখনই উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন। কারণ, মহানায়ক শুধু বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি নন, ঝাড়গ্রামের সাংস্কৃতিক ইতিহাসেরও এক উজ্জ্বল অধ্যায়। ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি একটি দর্শনীয় স্থান। আর তাই সাধারণ মানুষ, পর্যটকরা যাতে সেখানে প্রবেশ করতে পারেন, সেই জন্য আমরা চেষ্টা করছি। রাজবংশের পরিবারের লোকজনেদের সঙ্গে একপ্রস্থ কথা হয়েছে।”