বৈষ্ণব সাহিত্য, মনসামঙ্গল ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণ, অ্যাপেই দেখা যাবে প্রাচীন পুঁথি!
প্রতিদিন | ২৪ জুলাই ২০২৬
বৈষ্ণব সাহিত্য, মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল কিংবা কাশীরাম দাসের মহাভারত-কাটোয়া মহকুমার নানা প্রান্তে এখনও ছড়িয়ে রয়েছে। বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ, তালপাতা থেকে তুলোট কাগজে লেখা এইসব বহু প্রাচীন পুঁথি। কখনও গ্রন্থাগারের আলমারির মাথায়, কখনও মন্দিরের সংগ্রহশালায়, আবার কোথাও ব্যক্তিগত সংগ্রহে ধুলো-বালি ও উইপোকার আক্রমণে হারিয়ে যেতে বসা সেই ঐতিহ্যকে উদ্ধার করে ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রকের ‘জ্ঞান ভারতম’ মিশনের আওতায়। রাজ্যজুড়ের পাশাপাশি কাটোয়াতেও চলছে অভিযান।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পাণ্ডুলিপির পাঠোদ্ধার, অনুবাদ ও সংরক্ষণের কাজও চলছে। ভবিষ্যতে ‘জ্ঞান ভারতম’ পোর্টালে এই পাণ্ডুলিপিগুলি দেখা যাবে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই ইতিমধ্যে প্রায় সাড়ে তিন হাজার প্রাচীন পুঁথি ও পাণ্ডুলিপি ডিজিটাল মাধ্যমে সংরক্ষিত হয়েছে। কাটোয়ার শ্রীখণ্ড চিত্তরঞ্জন পাঠমন্দির গ্রন্থাগারে দীর্ঘদিন আলমারির মাথায় অবহেলায় পড়ে ছিল তালপাতা ও তুলোট কাগজে লেখা বহু প্রাচীন পুঁথি। উইপোকার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আগেই সেখান থেকে ১৭টি পাণ্ডুলিপি উদ্ধার হয়েছে।
সতীপীঠ ক্ষীরগ্রামের মা যোগাদ্যা মন্দিরের সংগ্রহশালা থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৩০টি তালপাতার পাণ্ডুলিপি। কাটোয়া ট্রেজারি থেকেও চারটি মূল্যবান পাণ্ডুলিপি মিলেছে। কেতুগ্রামের ঝামটপুরে কৃষ্ণদাস কবিরাজের বাড়ি থেকেও উদ্ধার হয়েছে একাধিক প্রাচীন পাণ্ডুলিপি। কাটোয়া মহকুমা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক সুস্মিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “কারও কাছে যদি প্রাচীন পুঁথি বা তালপাতার পাণ্ডুলিপির সন্ধান থাকে, তা হলে আমাদের জানালে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”