ডবল ইঞ্জিনের কিস্তিমাত! বদলের বঙ্গে তৈরি হবে হাজারটি ‘আদর্শ গ্রাম’, অর্থ দেবে কেন্দ্র
প্রতিদিন | ২৪ জুলাই ২০২৬
রাজ্যের পিছিয়ে পড়া গ্রামীণ এলাকাগুলোর পরিকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ‘আদর্শ গ্রাম যোজনা’র অধীনে রাজ্যের ১ হাজার গ্রামকে প্রথম ধাপে বাছাই করে সেগুলির ভোল বদল করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। রাজ্যের অনগ্রসর উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ সম্প্রতি এই সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেছেন। মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী সরকার এই প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য রাজ্যের মোট ৮ হাজার গ্রামকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছিল। সেই দীর্ঘ তালিকা থেকেই অত্যন্ত গুরুত্বের ভিত্তিতে প্রথম ধাপে ১ হাজার গ্রামকে উন্নয়নের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।
প্রদীপের নিচের অন্ধকারের মতোই এই রাজ্য প্রশাসনের নজর এড়িয়ে যাওয়া গ্রামগুলির আসল চিত্র অত্যন্ত করুণ। বর্ষায় হাঁটুসমান জল জমে যাওয়া, স্কুল থাকলেও উপযুক্ত স্কুলবাড়ি না থাকা, নিকাশি ব্যবস্থার অভাব এবং তীব্র পানীয় জলের সংকটে ভুগছে এই জনপদগুলো। পঞ্চায়েত স্তরেও এতদিন কোনও চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন পৌঁছয়নি। সবচেয়ে বড় সংকট হল, গ্রামের সিংহভাগ যুবকই রুজিরুটির টানে বাইরে ‘পরিযায়ী শ্রমিক’ হিসাবে কাজ করেন এবং কেবল উৎসব-অনুষ্ঠানে বাড়ি ফেরেন। ফলে স্থানীয় স্তরে অভাব-অভিযোগ নিয়ে সরব হওয়ার মতো কোনও বলিষ্ঠ অভিভাবক বা নেতৃত্বও এই গ্রামগুলোতে অবশিষ্ট নেই। কেন্দ্রীয় সহায়তায় এই ‘নেই’ রাজ্যের গ্রামগুলোকে ধাপে ধাপে অন্ধকারের বুক থেকে আলোর দিশায় ফিরিয়ে আনাই এখন মূল লক্ষ্য। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের আওতাধীন প্রতিটি গ্রামের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য গ্রাম পিছু ১০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে। এই রূপান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পূর্ণ অর্থ দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
উল্লেখ্য, দেশজুড়ে তফসিলি জাতি এবং তফসিলি উপজাতি প্রধান পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলির সামাজিক ও অর্থনৈতিক মানোন্নয়নের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সরকার এই ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচিটি পরিচালনা করে। প্রথম দিকে ‘প্রধানমন্ত্রী আদর্শ গ্রাম যোজনা’ প্রকল্পে সারা দেশে ৫০ শতাংশের বেশি তফসিলি জাতিভুক্ত জনসংখ্যা রয়েছে এমন প্রায় ৪৪,০০০ গ্রামকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়। পরবর্তীকালে, এই ধারায় উপজাতি কল্যাণে চালু হওয়া ‘প্রধানমন্ত্রী আদি আদর্শ গ্রাম যোজনা’-র আওতায় সারা দেশের মোট ৩৬,৪২৮ আদিবাসী প্রধান গ্রামকে আদর্শ গ্রামে রূপান্তরের কাজও সমান্তরালভাবে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক এই ১ হাজার গ্রামের পরিকাঠামোগত অভাব পূরণ সফল হলে, বাকি চিহ্নিত গ্রামগুলিকেও পর্যায়ক্রমে এই উন্নয়নের মূল স্রোতে শামিল করা হবে বলে দপ্তর সূত্রে আশাপ্রকাশ করা হয়েছে।