ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ, আদালত চত্বরে দাঁড়িয়েই ইভটিজারকে জুতোপেটা বধূর। মারধর করেন বধূর স্বামীও। শুক্রবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া মহকুমা আদালত চত্বরে এই ঘটনা ঘিরে হুলুস্থুল কাণ্ড বাধে। আদালতের নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্ত যুবক এবং বধূর স্বামীকে আটক করেন। পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের। এরপর ওই বধূ কাটোয়া থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে নিজেদের প্রয়োজনে আদালতে গিয়েছিলেন কটোয়া থানার গাঁফুলিয়া গ্রামের বাসিন্দা গৃহবধূ জবা ঘোষ। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা নয়নদেবী এবং স্বামী রাজেশ নন্দী। তিনজন তখন মহকুমাশাসকের কার্যালয়ের সামনে দাঁড়িয়ে। পাশেই ঘুর ঘুর করছিলেন কাটোয়া থানার লোহাপোতা গ্রামের বাসিন্দা কেবির হোসেন সেখ নামে এক যুবক! তখন আদালত চত্বর ও মহকুমা শাসকের অফিস চত্বরে বেশ ভিড়। যে যার নিজের কাজে ব্যস্ত। অভিযোগ, ওই যুবক বধূকে ইভটিজিং করে।
সেই ঘটনার প্রতিবাদ করেন ওই তরুণী। সেখানেই থেকে থাকেননি তিনি। ওই অভিযুক্তের জামার কলার চেপে ধরেন। জুতো খুলে এলোপাথারি পেটাতে থাকেন তিনি! লোকজন ভিড় করেন ওই আকস্মিক ঘটনায়। ওই নিগৃহীতার স্বামীও ঘটনাস্থলে পৌঁছন। স্ত্রীর মুখে ঘটনা শুনে তিনিও ওই যুবককে মারধর শুরু করেন! আদালত চত্বরে থাকা পুলিশ কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। মহিলা পুলিশ কর্মীরা ওই তরুণীকে সরিয়ে নিয়ে যান। ওই তরুণীর অভিযোগ, “অনেকক্ষণ ধরেই ওই যুবকটি আমার পিছু নিয়েছিল। অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করছিল। একাধিকবার আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করায় মারধর করেছি।”
যদিও অভিযুক্তের দাবি তিনি, কোনও খারাপ আচরণ করেননি। কাটোয়া থানার পুলিশ ওই অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে গিয়েছে। ওই তরুণীর স্বামীকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আদালত চত্বরে কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল? সেই প্রশ্ন উঠেছে।