বাঘরোলকে দেখে বলছে বাঘ..রটছে গুজব, হচ্ছে মৃত্য়ু! রাজ্যপ্রাণীকে চেনাতে এবার বিশেষ উদ্যোগ হাওড়ায়
News18 বাংলা | ২৪ জুলাই ২০২৬
রাজ্য প্রাণীর জীবন বাঁচাতে বিশেষ প্রকল্প হাওড়ায়! হাওড়া জেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমিতে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী মেছোবিড়াল ও অন্যান্য বিপন্ন প্রজাতির জীবজন্তুর বসবাস। কিন্তু জলাভূমি ভরাট, জঙ্গল ধ্বংস সহ বাসস্থান সংকটের জেরে বন্যপ্রাণীরা নানা কারণে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। মেছোবিড়াল গ্রামে এসে পুকুরের মাছ, হাঁসের উপর থাবা বসাচ্ছে। তাতেই বাড়ছে মানুষের সঙ্গে সংঘাত। এছাড়াও, মানুষের তীব্র অসচেতনতার ফলেও বিপদ বাড়ছে ওদের। কোথাও মেছোবিড়াল বা বাঘরোলকে দেখে বাঘের গুজবও রটছে।
বিভিন্ন কারণে মেছোবিড়ালের সঙ্গে মানুষের সংঘাত ও বেড়ে চলেছে রোজই। কয়েকদিন আগেই আমতা নারিটে একটি মেছোবিড়ালকে মেরে ফেলার মতো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটেছে। আমাদের রাজ্য প্রাণী মেছোবিড়াল বা বাঘরোল তফশিলি ১ শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত একটি প্রাণী।
পরিবেশের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ। সে বিষয়ে মানুষকে বিশেষ করে যুব সমাজকে সচেতন করে বন্যপ্রাণীদের জীবন রক্ষার একমাত্র পথ। সেই দিক থেকে ওদের গুরুত্ব বোঝানোর পাশাপাশি, এদের আঘাত করা প্রাণে মারা মারাত্মক অপরাধ। জেল ও জরিমানা হতে পারে। উভয় দিক গুরুত্ব রেখে নতুন প্রজন্ম অর্থাৎ পড়ুয়াদের সচেতন করতেই স্কুলে স্কুলে বিশেষ অভিযান হাওড়ায়।
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রাণী (State Animal) মেছোবিড়াল সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাওড়া জেলায় ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্ট এবং ওয়ান ওয়াইল্ড ইন্ডিয়া কালেক্টিভ সংস্থার যৌথ উদ্যোগে শুরু হল নতুন একটি প্রকল্প “বাঘরোল বন্ধু – ওয়ান লার্নস্, ওয়ান লিডস্”।
পরিবেশকর্মী অর্থাৎ সংগঠনের সদস্যরা ছাত্রদের ছাত্র ছাত্রীদের কাছে পৌঁছে, মেছোবিড়াল সম্বন্ধে প্রোজেক্টরে বিভিন্ন তথ্যচিত্র, ছবি, ভিডিও দেখাচ্ছে। এছাড়া জলাভূমি, মেছোবিড়াল এর উপর তাৎক্ষণিক বক্তৃতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন : ‘বিধায়ক পদ খাওয়ার তাল,’ মনমোহন সিং-এর আমল তুলে আক্রমণ কুণাল ঘোষের! সাংবাদিক বৈঠকে বললেন..
এই কর্মসূচিতে উপস্থিত বন্যপ্রাণ সংরক্ষণকারী লেখিকা ডঃ ঐশিমায়া সেন নাগ, অরিজিৎ নাগ, ডাঃ সৌরেন্দুশেখর বিশ্বাস, ডঃ সৌরভ দোয়ারি, শিক্ষক কিঞ্জল সেনগুপ্ত প্রমুখ।
ওয়াইল্ডলাইফ এনভায়রনমেন্ট সেভিয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চিত্রক প্রামাণিক জানান, ‘‘মেছোবিড়াল আমাদের হাওড়া জেলা তথা পশ্চিমবঙ্গের গর্ব। মেছোবিড়াল রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে এই বাঘরোল বন্ধু প্রোজেক্ট ভীষণভাবে সাহায্য করবে। কারণ স্কুল গুলি এবং ছাত্র ছাত্রীরা ভীষণ উৎসাহের সঙ্গে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছে।’’