সাধারণ স্নান ভেবে ভুল, নদীতে ঝাঁপ দিয়ে ছটফটানি যুবকের! চোখের সামনে এ কী অঘটন?
News18 বাংলা | ২৪ জুলাই ২০২৬
‘আমরা তো ভেবেছিলাম স্নান করছে’, আর তারপরেই এই ঘটনা…! জলপাইগুড়ির করলা নদীর দৃশ্য দেখে শিউরে উঠলেন স্থানীয়রা। করলা নদীতে আচমকা ঝাঁপ যুবকের! প্রথমে স্নান ভেবে ভুল হয়েছিল স্থানীয়দের। কিন্তু পরে উদ্ধার করা গেলেও শেষরক্ষা করা যায়নি। শুক্রবার সাতসকালেই এমনই এক মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি শহর। শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাবুপাড়া এলাকার করলা নদীর ঘাটে আচমকাই ঝাঁপ দেন এক যুবক। স্থানীয় বাসিন্দাদের তৎপরতায় তাঁকে জল থেকে উদ্ধার করে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়।
তবে শেষপর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা বাবুঘাট ও সংলগ্ন এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে নদীপাড়ে বেশ কয়েকজন বাসিন্দা বসে ছিলেন। অন্যান্য দিনের মতো তখনও ঘাটে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ছিল। সেই সময় হঠাৎই এক যুবককে করলা নদীর জলে ঝাঁপ দিতে দেখেন স্থানীয়রা। যেহেতু করলা নদীতে প্রতিদিন বহু মানুষ স্নান করতে নামেন, তাই প্রাথমিক অবস্থায় কেউই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেননি। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা ছিল, হয়ত স্বাভাবিকভাবেই স্নান করতে জলে নেমেছেন ওই যুবক।
তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই বদলে যায় পুরো ছবিটা। নদীর মাঝখানে ভেসে উঠে হাবুডুবু খেতে থাকেন ওই যুবক। তাঁর ছটফটানি আর জল খাওয়ার দৃশ্য চোখে পড়তেই ভুল ভাঙে ঘাটে থাকা মানুষদের। বিপদ বুঝতে পেরে এক মুহূর্ত দেরি না করে স্থানীয় কয়েকজন যুবক জলে ঝাঁপ দেন। দ্রুততার সঙ্গে তাঁকে নদী থেকে উদ্ধার করে ওপরে তুলে আনা হয়। ঘাটে এনে যুবকের প্রাথমিক শুশ্রূষা এবং জল বের করার চেষ্টা চালানো হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে। জল থেকে তোলার কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ওই যুবক। ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছয় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পুলিশ।
পুলিশ এসে মৃতদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য ইতিমধ্যেই জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। কিন্তু এই যুবকের পরিচয় বা নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট করে কিছু জানা যায়নি। এটি মানসিক অবসাদজনিত ঘটনা, নাকি এর নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনও কারণ, সেই বিষয়টিও এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, যুবকের নাম-পরিচয় উদঘাটনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। আশপাশের থানাগুলিতে খবর পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।