• মিড ডে মিল নিয়ে বড় খবর! রান্না কর্মীদের হাতেনাতে শেখানো হল আসল-নকল চেনার উপায়
    News18 বাংলা | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • : প্রথম শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ছাত্র ছাত্রীদের জন্য, স্কুলে রান্না করা খাবার দুপুরবেলা পরিবেশন করা হয়। এই মিড ডে মিল রান্নার কাজে থাকে স্থানীয় এলাকার স্ব-সহায়ক দলের মহিলারা। বিভিন্ন সময় মিড ডে মিলে রান্না করা খাবারদাবারের গুণগত মান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় এবার আর সেসব না। স্কুল পড়ুয়াদের নিরাপদ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে পিএম পোষণ প্রকল্পের রান্নার কর্মীদের নিয়ে বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতর।

    নিমতৌড়ি জেলা প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত ওই প্রশিক্ষণে কোলাঘাট, পাঁশকুড়া, ময়না-সহ তমলুক মহকুমার বিভিন্ন ব্লক থেকে প্রায় ১৪৬ জন রান্নার কর্মী অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার। এছাড়াও ছিলেন জেলা খাদ্য সুরক্ষা দফতরের আধিকারিক মোনিয়া চ্যাটার্জী-সহ ঐ দফতরের ফুড সেফটি ইন্সপেক্টর সুমন রানা, উজ্জ্বল সরকার, পায়েল চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সরকার এবং শ্রাবণী সাহা। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রান্না করা খাবারের গুণমান ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে খাদ্য সুরক্ষার প্রাথমিক নিয়মগুলি সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

    রান্নার কাজে যুক্ত থাকা মহিলাদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপদ খাদ্য সংরক্ষণ, খাবার ও পানীয় ঢেকে রাখা, রান্নার সময় ক্যাপ ও অ্যাপ্রন ব্যবহার, বাজার থেকে খাদ্যসামগ্রী কেনার সময় প্যাকেটের লেবেল পড়ে মান যাচাই—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে বোঝানো হয়। প্রশিক্ষণে ভেজাল খাদ্য চিহ্নিত করার কৌশলও শেখানো হয়। ‘ম্যাজিক বক্স’-এর মাধ্যমে কীভাবে বাড়িতেই প্রাথমিকভাবে খাদ্যে ভেজাল পরীক্ষা করা যায়, তার প্রদর্শনী দেখানো হয়। বিশেষ করে খোলা মশলা না কেনার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি মেটানিল ইয়েলো বা ‘কামধেনু রং’-এর মতো ক্ষতিকর নন-ফুড কালার ব্যবহারের ঝুঁকি সম্পর্কেও রান্নার কর্মীদের সচেতন করা হয়।

    খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনেরও সঠিক পদ্ধতি জানানো হয় এই শিবিরে। জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার বলেন, পিএম পোষণ প্রকল্পের রান্নার কর্মীদের খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করতেই এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদে খাবার রান্না ও সংরক্ষণ, খাদ্যে ভেজাল এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের পড়ুয়াদের নিয়মিত ভাত, ডাল, সবজি, ডিম-সহ সুষম খাদ্য পরিবেশন করা হয়। সেই ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তুলতেই এই উদ্যোগ।
  • Link to this news (News18 বাংলা)