ব্যান্ডের সুরে মায়ের শেষযাত্রা! ৯৫ বছরের বৃদ্ধা মাকে রাজকীয় বিদায় দিলেন পাঁচ ছেলে, শ্মশানযাত্রীদের জন্য বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও। মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পিপলা গ্রামে এক আবেগঘন ও ব্যতিক্রমী শেষযাত্রার সাক্ষী থাকলেন এলাকাবাসী। ৯৫ বছর বয়সে বার্ধক্যজনিত কারণে প্রয়াত হন গ্রামের বাসিন্দা দৈবকি দাস। শুক্রবার সকালে তাঁর শেষকৃত্যে সাধারণ শোকযাত্রার বদলে ব্যান্ড বাজিয়ে মাকে শেষ বিদায় জানান তাঁর পাঁচ ছেলে।
শুধু তাই নয়, শেষযাত্রায় অংশ নেওয়া আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও শ্মশানযাত্রীদের জন্যও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করেন তাঁরা। পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩০ বছর আগে দৈবকি দাসের স্বামী মারা যাওয়ার পর পাঁচ ছেলে মিলে মায়ের দেখভাল করতেন। তাঁকে কখনও অবহেলা বা কষ্ট পেতে দেননি। মায়ের প্রতি সেই শ্রদ্ধা ও ভালবাসার প্রকাশ ঘটাতেই শেষ বিদায়ে এই বিশেষ আয়োজন করা হয়।
আরও পড়ুন: পুষ্টির পাওয়ারব্যাঙ্ক এই ‘মাছ’…! ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন ঠাসা, সপ্তাহে ২ দিন খেলেই চুল পড়া ‘স্টপ’, বাজারে পেলে ছাড়বেন না যেন!
মৃতার ছেলে সুকুমার দাস বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর আমরা পাঁচ ভাই মিলে মাকে আগলে রেখেছিলাম। বর্তমান সময়ে অনেকেই বাবা-মাকে অবহেলা করেন। আমরা চাই, সমাজের কাছে এই বার্তা পৌঁছক। বাবা-মা বেঁচে থাকতে তাঁদের ভালবাসুন, সম্মান করুন। সেই ভাবনা থেকেই মায়ের শেষযাত্রায় এই আয়োজন।” গ্রামের বাসিন্দা মনোজ দাস বলেন, “বর্তমান সমাজে পারিবারিক ভাঙন বাড়ছে। সেখানে মায়ের প্রতি ছেলেদের এই ভালবাসা ও সম্মান সত্যিই প্রশংসনীয়। এটি অন্যদের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
শেষযাত্রায় গ্রামের বহু মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ব্যান্ডের সুর, আবেগঘন পরিবেশ এবং পরিবারের আন্তরিক আয়োজন উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়। স্থানীয়দের মতে, যখন সমাজের একাংশে বৃদ্ধ-বৃদ্ধারা অবহেলার শিকার হচ্ছেন, তখন দৈবকি দাসের পাঁচ ছেলের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে এক মানবিক দৃষ্টান্ত। পিপলা গ্রামের এই ঘটনা আরও একবার মনে করিয়ে দিল, মায়ের ভালোবাসার ঋণ কখনও শোধ করা যায় না, তবে শ্রদ্ধা, যত্ন ও সম্মান দিয়েই সেই ঋণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা সম্ভব।