এই সময়: বিধানসভায় পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বর্তমান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রাক্তন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। শুক্রবার তিনি খোলাখুলি বলেন, ‘মাত্র আড়াই মাস আপনি সময় পেয়েছেন। এর মধ্যে আপনি যে ভাবে চার দিকে দৌড়াচ্ছেন, আমি হয়তো তা পারিনি। এটা আমি স্বীকার করছি।’ ফিরহাদের মুখে বিজেপি–র মন্ত্রীর এই প্রশংসা শুনে টিপ্পনি কাটেন তথ্য–সংস্কৃতি মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী। বর্তমানে বিদ্রোহী তৃণমূলের সদস্য ফিরহাদ বক্তব্য থামিয়ে মন্ত্রীর দিকে তাকিয়ে সহাস্যে বলেন, ‘আমি আপনাদের সমর্থন করে বলার চেষ্টা করছি। আর আপনি আমাকে জোর করে বিরোধী বানানোর চেষ্টা করছেন!’
শহরের জলাভূমি ভরাট নিয়ে রাজ্যের বর্তমান পুরমন্ত্রীকে পরামর্শ দেন প্রক্তন। ফিরহাদ বলেন, ‘পুরোনো ইমারতের ভাঙা অংশ ফেলে বেআইনি ভাবে জলাভূমি বোজানো হচ্ছে। এটা পুলিশের সাহায্য নিয়ে শক্ত হাতে বন্ধ করা উচিত। আমিও আমার সময়ে অনেক চেষ্টা করেছি। আপনি যে ভাবে ছুটছেন, আপনিই পারবেন এটা বন্ধ করতে।’ তাঁর সংযোজন, ‘শুভেন্দু অধিকারী বা অগ্নিমিত্রা পালের নেতৃত্বে আমার শহর যদি ভালো হয়, তবে আমি গর্বিতই হব।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘নগরায়ন একটা ধারাবাহিক পদ্ধতি। আজকের প্রয়োজনে শহরে যে পরিকাঠামোই করা হোক না কেন, কাল তার বদল ঘটে যায়। বিশেষ করে পুর এলাকার লাগোয়া অঞ্চলের জনবসতির চাপ শহরের উপরে পড়ে। যা পুর পরিষেবার উপরে চাপ তৈরি করে।’
বিরোধী আসন থেকে তৃণমূলের বিদ্রোহী তৃণমূল নেতা ও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রশংসা শুনে বর্তমান পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল্টা প্রশ্ন তোলেন, ‘১৫ বছর রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার পরেও কেন সুনির্দিষ্ট নিকাশি প্রকল্প হলো না? এর জন্য গত এক দশকে পাঁচ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কোথায় গেল সেই টাকা?’ তাঁর অভিযোগ, ‘আগে পুর বাজেটের বড় অংশই বরাদ্দ হতো কলকাতা পুরসভার জন্য। বাকি টাকা প্রভাবশালী মন্ত্রী ও নেতাদের পুরসভায় বরাদ্দ করা হতো। অন্য পুরসভাগুলি ছিঁটেফোটা পেত। তাই সুসংহত উন্নয়ন হয়নি।’ তবে বর্তমান সরকার সেটা করছে না বলে দাবি করেন অগ্নিমিত্রা। বলেন,‘প্রত্যেক জেলার পুরসভার উন্নয়নে বরাদ্দ বণ্টনের ক্ষেত্রে সম–গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্বান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে ৮০০ কোটি টাকা পাওয়া যাবে, যা আগামী তিন বছর নগরোন্নয়নে মূলধনী খাতে খরচ করা হবে।’
পূর্বতন সরকারের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলে অগ্নিমিত্রা বলেন, ‘অম্রুত–১ ও ২ নম্বর প্রকল্পে এখনও ২৫ লক্ষ বাড়িতে পানীয় জল পৌঁছলো না কেন? বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলে শুনেছি, পানীয় জলের পাইপ বসেছে। কিন্তু জল পৌঁছয়নি। কোথাও আবার বিশুদ্ধ পানীয় জলের বদলে নোংরা জল সরবরাহ হচ্ছে।’ মন্ত্রী জানান, জল সংরক্ষণের জন্যও রাজ্য সরকার নতুন চিন্তাভাবনা করছে। বৃষ্টির জল সংরক্ষণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করার কথা ভাবা হচ্ছে। এ ছাড়া কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় দ্রুত গড়ে তোলা হবে এক আধুনিক রিং–রোড। পলতা জল প্রকল্পের সম্প্রসারণও করা হচ্ছে।
এ দিন আলোচনায় অংশ নিয়ে সিপিএমের মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ডোমকল পুরসভা চলছে মাত্র এক জন স্থায়ী কর্মী নিয়ে। ২০১৭–এর পরে সেখানে ভোট হয়নি। সেখানে কোনও পরিকাঠামো নেই।’