এই সময়: বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে আয়োজিত ‘সেবাশ্রয়’ স্বাস্থ্য শিবির রাজ্যের পুলিশ–প্রশাসনের আতশকাচের নীচে রয়েছে। বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত এই শিবিরগুলিতে বিস্তর অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগও উঠতে শুরু করেছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় এখনও ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের অস্থায়ী প্যান্ডেল খোলা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এ নিয়ে শুক্রবার বিধানসভায় সরব হন ফলতার বিজেপি বিধায়ক দেবাংশু পণ্ডা। গোটা বিষয় নিয়ে আজ, শনিবার বিধানসভায় বিবৃতি দেওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
শুক্রবার বিধানসভায় দেবাংশু বলেন, ‘চিকিৎসার নামে নানা অপকর্ম হয়েছে সেবাশ্রয়ে। কোনও রোগীর হাত বাদ গিয়েছে। কারও পা বাদ দিতে হয়েছে।’ তাঁর দাবি, ‘ফলতার সেবাশ্রয় শিবিরের জন্য গোটা একটা মাঠ দখল করে রাখা হয়েছে। এখনও প্যান্ডেল খোলা হয়নি।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল জিতলে এলাকার বিজেপি কর্মীদের ওই ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে পালিশ করার পরিকল্পনা ছিল।’ তাঁর দাবি, ফলতায় ‘সেবাশ্রয়ে’র ওই প্যান্ডেলটি খুলতেই রাজ্য সরকারের ২৪ লক্ষ টাকা খরচ হবে। তিনি বলেন, ‘আমি এই বিষয়টি বিধানসভার নজরে আনছি এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করছি।’
এখানেই শেষ নয়। ফলতার বিধায়ক বলেন, ‘এলাকার একাধিক বেসরকারি নার্সিংহোম থেকে জোরজুলুম করে নানা মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম ছিনিয়ে আনা হয়েছিল ওই শিবিরের জন্য। ফলে স্থানীয় নার্সিংহোমগুলির পরিষেবা অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য পরিষেবাও প্রশ্নচিহ্নের মুখে।’
বিধানসভায় এর জবাব দেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তিনি বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে এই বিষয়ে (সেবাশ্রয়) একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ পেয়েছি। চিকিৎসা পরিষেবা নিয়েও অভিযোগ উঠছে। শনিবার (আজ) বিধানসভার অধিবেশনে এই বিষয়ে বিবৃতি দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।’
তৃণমূল ক্ষমতায় থাকার সময়ে ডায়মন্ড হারবারে নিজের সংসদীয় এলাকায় ‘সেবাশ্রয়’ শিবির চালু করেছিলেন অভিষেক। দূর–দূরান্ত থেকে সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য আসতেন গরিব মানুষ। এমনকী, অন্যান্য রাজ্য থেকেও কেউ কেউ ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরে পরিষেবার পাওয়ার জন্য এসেছিলেন। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পর থেকেই ‘সেবাশ্রয়’ সম্পর্কে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। ডায়মন্ড হারবারের বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের (ববি) হস্তক্ষেপে অভিষেকের বিরুদ্ধে এফআইআর–ও দায়ের হয়েছে।
কালীঘাট–ঘনিষ্ঠ তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ এই ইস্যুতে অভিষেকের পাশে দাঁড়িয়ে বিধানসভার বাইরে বলেন, ‘এরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে টার্গেট করেছে। যে ব্যক্তি এই সদনের (বিধানসভার) সদস্য নন, তাঁকে টার্গেট করা যায় না। সেবাশ্রয় নিয়ে আমার স্পষ্ট ধারণা নেই। বিধানসভার সদস্য নন, এমন কাউকে টার্গেট করা ঠিক নয়। তা হলে অভিষেককেও জবাবি ভাষণ দিতে দেওয়া হোক।’ কুণালের সংযোজন, ‘অভিষেক সাংসদ। লোকসভায় তাঁকে প্রশ্ন করা হোক। এখানে কেন করা হচ্ছে?’