• শ্রাবণী মেলার আয়োজনে ত্রুটি, তোপ বিজেপি নেতার, ঘরে বাইরে প্রবল সমালোচনার মুখে বিধায়ক সন্তু পান
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, আরামবাগ: তারকেশ্বরের শ্রাবণী মেলাকে ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে এলো। শ্রাবণী মেলার অব্যবস্থাপনা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে তারকেশ্বরের বিজেপি বিধায়ক সন্তু পানকে কাঠগড়ায় তুলেছেন দলেরই একাংশ। এ নিয়ে প্রকাশ্যেই বিধায়কের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন স্থানীয় বিজেপি নেতারা। স্থানীয় দোকানদারও প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন বিধায়কের বিরুদ্ধে। তাতে বেজায় বিড়ম্বনায় পড়েছেন শাসকদলের নেতারা।

    এ বার শ্রাবণী মেলার আড়ম্বর বাড়লেও বিতর্ক কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। শ্রাবণী মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে উঠে তারকেশ্বরের মোহন্ত মহারাজ সুরেশ্বর আশ্রমকে ‘চোর’ বলে সম্বোধন করেছিলেন কৈকালার নন্দকুঠির মহারাজ প্রজ্ঞানস্বরূপ ব্রহ্মচারী। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতে নতুন করে বিতর্কে জড়িয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক সন্তু পান। তাঁর বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তোপ দেগেছেন তাঁরই দলের নেতারা।

    অভিযোগ উঠছে, যুগ যুগ ধরে শ্রাবণী মেলার সময় তারকেশ্বরের আশপাশের মানুষরা বিভিন্ন ধরনের দোকান দিতেন। তা থেকে তাঁরা ভালো টাকা রোজগার করতেন। কিন্তু এ বার নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ছোট দোকানদারদের বসতে দেওয়া হয়নি। রাস্তার পাশ থেকে বেশ কিছু দোকান তুলে দেওয়া হয়েছে। তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। ওই সব দোকানদারদের বক্তব্য, শ্রাবণী মেলা থেকেই তাঁদের সারা বছরের অন্নের সংস্থান হতো। কিন্তু এ বার তাঁদেরকে বসতেই দেওয়া হয়নি। এর জন্য সন্তু পানকেই কাঠগড়ায় তুলছেন তাঁরা। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার তারকেশ্বর থানায় ডেপুটেশন দেন কিছু মানুষ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বিজেপির আরামবাগ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক তথা দলের প্রবীণ নেতা গণেশ চক্রবর্তী, তারকেশ্বর টাউন মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লিজ়া চট্টোপাধ্যায়, তারকেশ্বর টাউন মণ্ডলের সভাপতি বিল্বমঙ্গল মালিক, প্রাক্তন সভাপতি বাবলু ঘোষ, বর্তমান জেলা কমিটির সদস্য জগন্নাথ দাস, অশ্বিনী চক্রবর্তী–সহ একাধিক বিজেপি নেতা। তাঁরা বিধায়কের কাজকর্ম নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    গণেশ চক্রবর্তী বলেন, ‘সাধারণ মানুষ আমাদের কাছে অভিযোগ করছেন। এখানে গরিবের পেটে লাথি মারা হচ্ছে। এটা করা যাবে না। এই লোকগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এঁরা প্রত্যেকেই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। হকারি করে খান। শ্রাবণী মেলার রোজগার থেকেই বছরে অন্তত সাত–আট মাস তাঁদের সংসার চলে। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে ওঁদের খুবই সমস্যা হবে।’ তাঁর আরও অভিযোগ, শ্রাবণী মেলার সময় যাঁরা তারকেশ্বরে বাবার মাথায় জল ঢালতে আসছেন, তাঁরা যথাযথ পরিষেবা পাচ্ছেন না। খাবার জল পর্যন্ত মিলছে না। যে সব অস্থায়ী শৌচালয় বানানো হয়েছে, সেগুলিও অত্যন্ত নড়বড়ে। তা থেকে যে কোন সময়ে বিপদ ঘটতে পারে। লকগেট ব্যারিকেড করে আটকে দেওয়া হচ্ছে। তাতে প্রচণ্ড ভিড় হয়ে যাচ্ছে। এতে পদপিষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। বহু জায়গায় পর্যাপ্ত আলো লাগানো হয়নি। বিশেষ করে বড় বড় পুকুরের পাশে আলো নেই। হসপিটাল রোডেও আলো লাগানো হয়নি। ফলে সন্ধ্যার পরে সেখান দিয়ে লোকরজনের চলাচল করতে সমস্যা হচ্ছে। তাঁর কটাক্ষ, ‘প্রতি বছরই তো শ্রাবণী মেলা হয়। কোনও দিনই এই ধরনের সমস্যা হয়নি। বিধায়ক শুধু হেলিকপ্টার থেকে ফুল ছুড়ে দিলেই হবে। বিধায়ককে নীচে নেমে দেখতে হবে, কোথায় সমস্যা হচ্ছে।’

    শ্রাবণী মেলা চলাকালীন সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপি নেতা গণেশ চক্রবর্তীর একটি বিতর্কিত পোস্ট ঘিরেও শোরগোল পড়ে গিয়েছে। তাতে তিনি লিখেছেন, ‘জগৎ ভরা ভণ্ডামি। তারকেশ্বরে একটি নতুন সাধুর আমদানি হয়েছে। তাঁর নাম, হেলিকপ্টার বাবা। উনি এতই উড়ছেন যে সাধারণ মানুষের দুঃখ–কষ্ট বোঝার চেষ্টাই করছেন না তিনি। তাঁদের দুঃখ–কষ্ট বুঝুন। সমাধানের পথ খুঁজুন।’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, সম্ভবত বিধায়ক সন্তু পানকেই হেলিকপ্টার বাবা বলে সম্বোধন করেছেন ওই বিজেপি নেতা।

    তারকেশ্বর মহিলা মোর্চার সভানেত্রী লিজ়া চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এ সব কী হচ্ছে জানি না। সাধারণ গরিব মানুষরা আজ পথে বসেছেন। তাঁদের কাজ ফিরিয়ে দিতে হবে। তাঁরা খাবে কী? আমাদের একটাই দাবি, এই সব অসহায় মানুষগুলোকে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হোক।’

    এ বিষয়ে বিধায়ক সন্তু পানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। এসএমএসেরও জবাব দেননি। তবে সন্তু পানের ঘনিষ্ঠ এক বিজেপি নেতা বলেন, ‘কারও যদি কোনও অভিযোগ থাকে তিনি দলের অভ্যন্তরে বলতে পারেন। দরকার হলে উচ্চ নেতৃত্বকে জানাতে পারেন। কিন্তু সেটা না করে বিধায়ককে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করছেন কিছু অতৃপ্ত নেতা।’

  • Link to this news (এই সময়)