• ‘হুকুম করলে হবে না, ভালোবেসে বোঝান’, ককরোচদের আন্দোলনের মধ্যেই বড় বার্তা মোহন ভাগবতের
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ শুরু করছেন ককরোচ জনতা পার্টির কর্মী ও সমর্থকরা। তাঁদের সমর্থনে রাস্তায় নেমে এসেছেন ছাত্রছাত্রীদের একটা বড় অংশ। এই পরিস্থিতিতে শনিবার যুব সমাজকে সামলানো নিয়ে বড় বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। তরুণ প্রজন্মকে শুধু নির্দেশ বা হুকুম দিয়ে চালনা করা যাবে না বলে জানিয়ে দিলেন তিনি। মোহন ভাগবতের কথায়, ‘ওদের ভালোবেসে, যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে।’ কেন্দ্রীয় সরকারের দিকেই তিনি এই ইঙ্গিত করেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ।

    এ দিন ড. আম্বেদকর ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে ‘বিশ্ব মঙ্গল্য সভা’-য় যোগ দেন মোহন ভাগবত। সেখানে যুগ পরিবর্তনের কথা বলেন তিনি। মোহন ভাগবতের কথায়, ‘আমরা যখন ছোট ছিলাম, তখন বড়দের কথা মেনে চলার যুগ ছিল। কিন্তু এখন সময় বদলে গিয়েছে।’ বর্তমান প্রজন্মকে সঠিক দিশা দেখাতে হলে প্রথমে তাঁদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

    ভাগবতের মতে, বর্তমান প্রজন্ম প্রশ্ন করতে ভালোবাসে। তাই শুধু উপদেশ দিলেই হবে না, তাঁদের প্রশ্নের যুক্তিসঙ্গত উত্তরও দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘পরিবারে আলোচনার পরিবেশ দিন দিন কমে যাচ্ছে।’ যদিও নিজের বক্তব্যে একবারও ককরোচ জনতা পার্টির নাম নেননি তিনি। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার প্রসঙ্গও তোলেননি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্যে কেন্দ্র ও দিল্লি পুলিশের ‘অনড় মনোভাবের’ বিপরীতে দাঁড়ালেন ভাগবত।

    তবে যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশি সংঘর্ষের পরে তাঁর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল। X পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘মোহন ভাগবতজি, যন্তর মন্তরের ঘটনাগুলি নিয়ে গত এক মাসে আপনার নীরবতা এই বক্তৃতার থেকেও বেশি অর্থবহ।’ ককরোচ জনতা পার্টি শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাইলেও কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তেমন কোনও সম্ভাবনা নেই। যদিও ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজেও প্রশ্নফাঁস ও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নতুন বিল আনার কথা জানিয়েছেন।

    ইতিমধ্যে সরকারের সঙ্গে দু’দফা বৈঠকে বসেছে ককরোচ জনতা পার্টি। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও রফাসূত্র মেলেনি। CJP-ও নিজেদের অবস্থান থেকে সরেনি। এই পরিস্থিতিতে মোহন ভাগবতের মন্তব্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এদিকে CJP-র আন্দোলনের পিছনে দেশি-বিদেশি শক্তির মদত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সঙ্ঘের নেতা ইন্দ্রেশ কুমার। তাঁর অভিযোগ, ‘দেশের ভিতরে ও বাইরে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যারা চায় না ভারত একটি উন্নত, শক্তিশালী ও শিক্ষিত রাষ্ট্র হয়ে উঠুক।’

  • Link to this news (এই সময়)