• ‘এমন ব্যবস্থা করব, তিন পুরুষ মনে রাখবে’, ধর্মতলার মিছিল নিয়ে কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ধর্মতলার মিছিল থেকে যাঁরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা হবে গুন্ডাদমন আইনে। এমন ব্যবস্থা করা হবে যে, তিন পুরুষ মনে রাখবে! শনিবার বিধানসভায় দাঁড়িয়ে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ৭০ জনকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁরা ছাত্রও নন এবং তাঁদের সঙ্গে নিট-আন্দোলনের কোনও যোগও নেই। ধর্মতলার মিছিলে বিশৃঙ্খলা এবং সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনায় হেয়ার স্ট্রিট এবং এন্টালি থানা মিলিয়ে মোট সাতটি মামলা দায়ের হয়েছে বলেও জানিয়েছেন শুভেন্দু। উল্লেখ্য, রাজ্যে গুন্ডাদমন আইন পাশ হওয়ার পরে এই প্রথম তা প্রয়োগ হচ্ছে।

    ধর্মতলার মিছিলে আক্রান্ত সাংবাদিকদের কয়েক জনকে এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল। শুক্রবার রাতে তাঁদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও তিনি হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার পরে শনিবার বিধানসভায় ফের সাংবাদিকদের হেনস্থা এবং তাঁদের উপরে হামলা নিয়ে মুখ খোলেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বলেন, ‘৬ জন সাংবাদিক যাঁরা গুরুতর জখম হয়েছেন, রক্তপাত ঘটেছে, তাঁরা হলেন— শিলাদিত্য কর, দীপঙ্কর দাশগুপ্ত, মানস পাত্র, সুমন মহাপাত্র, ঋক পুরকায়স্থ এবং কৃষ্ণেন্দু মজুমদার। সাংবাদিকদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি।’ মুখ্যমন্ত্রীর মত, ‘ডিম ছোড়া যদি বাংলার সংস্কৃতি না হয়, তা হলে সাংবাদিকদের উপরে জুতো-বোতল ছোড়াও বাংলার সংস্কৃতি নয়।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানান, শান্তিপূর্ণ ভাবে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যে কেউ নিজের মতপ্রকাশ করতে পারে। পুলিশকেও তা বলে দেওয়া হয়েছিল। শুভেন্দু বলেন, ‘পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যতক্ষণ না আন্দোলনকারীরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছেন, ততক্ষণ পুলিশ বলপ্রয়োগ করবে না। পুলিশও সেই বিষয়টা নজরে রেখেছিল। মিছিল প্রথমে শান্তিপূর্ণ ভাবেই এগিয়েছিল। পুলিশের অনুমান, ৯ হাজার লোক ছিল। তার পরে ধর্মতলায় ডোরিনা ক্রসিংয়ে এসে জুতো-বোতল ছোড়া শুরু হয়।’

    মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, স্বঘোষিত ককরোচ পার্টির ডাক দেওয়া এই মিছিলে এমন কিছু লোক ঢুকে পড়েছিলেন, যাঁদের সঙ্গে মূল আন্দোলনের কোনও সম্পর্ক নেই। তদন্তে দেখা গিয়েছে, তাঁরা ছাত্রও নন। কোনও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়েই তাঁদের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁরাই নানা ভাবে পুলিশকে প্ররোচিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের ফাঁদে পা না দিয়ে সংযম বজায় রেখেছে। শুভেন্দু বলেন, ‘ওরা চেয়েছিল পুলিশ লাঠি চালাক, গ্যাস ফাটাক, বলপ্রয়োগ করুক। তার পরে নাটকটা জোরদার চলুক। কিন্তু পুলিশ তা হতে দেয়নি। চার জন কুখ্যাত লোকের নাম আমি এখানে বলছি। এদের ছাড়ব না। এরা হলো— রাজাবাগানের আফরোজ, খিদিরপুরের নাহিদ, একবালপুরের তনভির আর নিজাম, ওয়াটগঞ্জের রাহুল জামাল। এই পাঁচ গুন্ডা। গুন্ডাদমন আইনে এমন ব্যবস্থা নেব, যাতে তিন পুরুষ মনে রাখে। এই জন্যই গুন্ডাদমন আইন এনেছিলাম।’

    মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাংবাদিকদের উপরে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার বিধানসভা চত্বরে আম্বেডকর মূর্তির পাদদেশে মুখে কালো ব্যাজ লাগিয়ে একটি কর্মসূচি পালন করবেন বিজেপি বিধায়কেরা।

  • Link to this news (এই সময়)