• রইল বাকি দুই, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পরে আর কোন কোন দাবিতে সরব নিট আন্দোলনকারীরা
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • প্রথম দাবিই ছিল, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। সেই দাবি আদায় হয়ে গিয়েছে। আন্দোলনের চাপের মুখে শনিবার দুপুরে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। এ বার বাকি আরও দু’দফা দাবিতে সরব হয়েছেন নিট আন্দোলনকারীরা।

    ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতেই হবে। সেটা না হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থই নেই। শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে এ কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন নিট আন্দোলনকারীরা। সেই সঙ্গে তাঁরা স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন তাঁদের দু’দফা দাবিও— এক,আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। দুই নিটের প্রশ্নফাঁসে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরে যে ক’জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

    প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে ইতি টানতে শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রী, জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু দু’ঘণ্টা আলোচনার শেষে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে অনড় রইলেন সিজেপির দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ধর্মেন্দ্রকে সরানোর প্রশ্নে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়। যা না-মানা হলে আগামী সপ্তাহে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব।

    যদিও নরেন্দ্র মোদী সরকারের একটি সূত্রে দাবি, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সরকার ও দল সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর পাশে রয়েছে। কিন্তু শেষমেশ আন্দোলনকারীদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ইস্তফা দিলেন ধর্মেন্দ্র। সূত্রের দাবি, শনিবার কেন্দ্রের কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি নেতৃত্বের যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেখানে বাকি দুই দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

    প্রসঙ্গত, ইস্তফাপত্রে ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, ‘গত ১০ দিনের ঘটনাক্রমে আমার মন ভারাক্রান্ত। দেশের যুবশক্তিই আসল শক্তি। দেশের এই যুবশক্তি যাতে কোনও বিভ্রান্তির বেড়াজালে আটকে না পড়ে— সেটাই আমার একমাত্র সংকল্প।’ তাঁর সংযোজন, ‘যন্তর মন্তরে এবং দেশজুড়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার সুযোগ নিয়ে কোনও রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, দেশের ঐক্য ও সংহতি যাতে বজায় থাকে, ভারতে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ-ও যাতে কোনও রকম আইনি জটিলতায় জড়িয়ে না পড়ে এবং আমাদের সন্তানরা যাতে কোনও বাধা ছাড়াই লেখাপড়া ও কেরিয়ার গড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে—এই সব দিক বিবেচনা করেই আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।’

    ধর্মেন্দ্র প্রধান কবে ইস্তফা দিয়েছেন?

    শনিবার দুপুরে আন্দোলনের চাপের মুখে ইস্তফা দিয়েছেন তিনি।

    নিট আন্দোলনকারীদের বাকি দাবি কী কী?

    আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার এবং আত্মহত্যা করা পড়ুয়াদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ— এই দুই দাবি এখনও বাকি।

    সিজেপির প্রতিনিধি কারা?

    সিজেপির দুই প্রতিনিধি হলেন সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।

    সরকার প্রথমে কী বলেছিল?

    সরকারি সূত্রের দাবি ছিল, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার কোনও প্রশ্নই নেই এবং দল তাঁর পাশে রয়েছে।

    ইস্তফাপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান কী বলেছেন?

    তিনি লিখেছেন, দেশের যুবশক্তি ও পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতেই তিনি পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)