• ‘সারারাত ঘুম হতো না...’, কেঁদে ফেললেন CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বাবা-মা, কী বললেন?
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • নিট পরীক্ষায় কেলেঙ্কারি নিয়ে দীর্ঘদিনের আন্দোলন। দিল্লির যন্তর-মন্তরে রাতদিন পড়ে থাকা। বার বার কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা, পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি-লাঠিচার্জ, সব পেরিয়েও যন্তর মন্তরে ধর্না চালিয়ে গিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। গোটা সময়জুড়ে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে গিয়েছেন এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করা অভিজিৎ, নিট আন্দোলন কর্মসূচির জন্যই বিদেশ থেকে ভারতে ফিরেছিলেন। দীর্ঘ আন্দোলনের পরে অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির দাবি মেনে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। তারপরে কী বললেন মহারাষ্ট্রে থাকা অভিজিৎ দীপকের বাবা-মা?

    ANI-এর সঙ্গে কথা বলার সময়ে কেঁদে ফেলেন অভিজিৎ দীপকের বাবা-মা। মা অনিতা দীপকে বললেন, ‘মশার মধ্যে, নানা কষ্টের মধ্যে ওকে কাটাতে হয়েছে... আজ ওর এত বড় জয় হয়েছে, খুব বড় একটা জয় পেল আজ।’ কাঁদছেন কেন? সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অনিতা দীপকে বলেন, ‘এগুলো খুশির অশ্রু। আজ আমার ছেলের জয় হয়েছে। ওর টাইফয়েড হয়েছিল, এত কিছুর মধ্য দিয়েও সে আজ জয় ছিনিয়ে এনেছে...।’

    এতদিন ছেলের জন্য মারাত্মক দুশ্চিন্তা হতো তাঁদের, জানাচ্ছেন মা। তিনি বলেন, ‘সারারাত আমাদের ঘুম হতো না, ভোর তিনটে পর্যন্ত ঘুমাতাম না, ভাবতাম ছেলের কী হচ্ছে না হচ্ছে, খুব দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ খুব ভালো লাগছে। ওর পরিশ্রম সার্থক হয়েছে...ওর কষ্ট আজ সার্থক হলো।’ অভিজিৎ অত্যন্ত চাপের মধ্যে ছিলেন বলে জানাচ্ছেন তাঁর মা। অনিতা জানান, তাঁর ছেলে আড়াই মাস ধরে ঠিকমতো ঘুমাননি... ৬ জুন থেকে ও ভীষণ মানসিক চাপের মধ্যে ছিল। কথা বলতেই পারেননি বাবা বাবা ভগবানরাও দীপকে। আবেগতাড়িত হয়ে পড়তে দেখা গিয়েছে তাঁকে। সেই কারণে তাঁর মুখ দিয়ে কথা বেরোচ্ছে না বলেও জানান তিনি।

    দিল্লির আন্দোলন এবং তার সমর্থনে দেশজুড়ে হওয়া আন্দোলনের প্রবল চাপে অবশেষে ককরোচ জনতা পার্টির মূল দাবি মেনেছে সরকার। শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আরও কিছু দাবি রয়েছে ককরোচদের। নিট কেলেঙ্কারির ঘটনায় যে পড়ুয়ারা আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি রয়েছে। আন্দোলনের সময়ে যে যে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে, সেগুলি তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ দিনই সরকারের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনাও রয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)