কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা দেওয়া নিয়ে প্রথম প্রতিক্রিয়া দিলেন সোনম ওয়াংচুক। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘এটা গণতন্ত্রের জয়। এটা শান্তি, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের জয়। অভিনন্দন সিজেপি, জেন জ়ি এবং ভয় ঝেড়ে ফেরে দেশের প্রতিটি কোণা থেকে উঠে এসে আন্দোলনে যোগ দেওয়া নাগরিককে ধন্যবাদ। দায়বদ্ধতা থেকে এ বার যাত্রা সংস্কারের দিকে।’
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার অন্যতম মুখ ছিলেন পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম। মূলত তিনি অনশনে বসার পরেই আন্দোলন অপ্রত্যাশিত গতি পেয়েছিল। সরকারের বেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপের জেরে ২৬ দিনের মাথায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অনশন তুলে নিয়েছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ধর্মেন্দ্রকে ইস্তফা দিতেই হবে। সেটা না হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনার কোনও অর্থই নেই। শনিবার কেন্দ্রের সঙ্গে তৃতীয় দফা বৈঠকের আগে এ কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন নিট আন্দোলনকারীরা। ঘটনাচক্রে, তার পরেই পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র। এই দাবি আদায় হওয়ার পরে আন্দোলনকারীরা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের বাকি দু’দফা দাবিও মানতে হবে সরকারকে। তা হলো— এক, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনও আইনি পদক্ষেপ করা যাবে না। দুই নিটের প্রশ্নফাঁসে পরীক্ষা বাতিল হওয়ার পরে যে ক’জন পড়ুয়া আত্মহত্যা করেছেন, তাঁদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
প্রায় এক মাস ধরে চলতে থাকা আন্দোলনে ইতি টানতে শুক্রবার ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছিলেন সরকারের দুই শীর্ষ মন্ত্রী, জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিং। কিন্তু দু’ঘণ্টা আলোচনার শেষে ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার দাবিতে অনড় রইলেন সিজেপির দুই প্রতিনিধি সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা। ধর্মেন্দ্রকে সরানোর প্রশ্নে শনিবার বিকেল পর্যন্ত সময়ও দেওয়া হয়। যা না-মানা হলে আগামী সপ্তাহে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন সিজেপি নেতৃত্ব।
যদিও নরেন্দ্র মোদী সরকারের একটি সূত্রে দাবি, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। সরকার ও দল সম্পূর্ণ ভাবে তাঁর পাশে রয়েছে। কিন্তু শেষমেশ আন্দোলনকারীদের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন ধর্মেন্দ্র। সূত্রের দাবি, শনিবার কেন্দ্রের কেন্দ্রের সঙ্গে সিজেপি নেতৃত্বের যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেখানে বাকি দুই দাবি নিয়ে আলোচনা হতে পারে।