• কোটি টাকার পাচারচক্র, রক্ত-বাণিজ্যে রক্তাক্ত বাংলা!
    আজকাল | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদল হলেও পূর্বতন সরকারের দুর্নীতির জাল আজও বিস্তৃত। এবার রক্ত নিয়ে ব্যবসার কারণে রক্তাক্ত হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ। সাধারণর মানুষের প্রাণ বাঁচাতে দান করা রক্ত শেষ পর্যন্ত চলে যাচ্ছে ভিন রাজ্যে, বিহার উত্তরপ্রদেশে। দুর্নীতির গভীরে ডুবে থাকা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় নতুন করে ধাক্কা। দক্ষিণ কলকাতার যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর রক্তপাচারের অভিযোগ। মাত্র ছ’মাসে (জানুয়ারি-জুন) প্রায় দু’কোটি টাকার রক্ত বিক্রি করেছে এই ব্লাড ব্যাঙ্ক। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ককে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত রক্তদান শিবির থেকে রক্ত সংগ্রহ সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য ব্লাড ট্রান্সফিউশন সেল (SBTC) ইতিমধ্যে ব্লাড ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে সমস্ত নথি নিয়ে হাজিরা দিতে বলেছিল। জমা দেওয়া নথি থেকেই বেরিয়ে এসেছে ভয়ঙ্কর তথ্য। 

    কত রক্ত গেল বাইরে? স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩,২৬২ ইউনিট লোহিত রক্তকণিকা, আনুমানিক মূল্য ৩৩ লাখ টাকা। প্রায় ১২,০০০ ইউনিট (৩,০০০ লিটার) প্লাজমা, বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মোট ৫টি বহুজাতিক সংস্থার কাছে প্লাজমা বিক্রির রেকর্ড মিলেছে। ডাক্তার সাজিয়ে ছাত্রদের নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। রক্তদান শিবিরে ডাক্তার সাজিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এসএসকেএম হাসপাতালের দ্বিতীয় বর্ষের এমবিবিএস ডাক্তারি পড়ুয়াদের। স্বাস্থ্য ভবন তাদেরও তলব করে লিখিত জবানবন্দি নিয়েছে। 

    শুধু অশোক ব্লাড ব্যাঙ্ক নয়, পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও উঠেছে ৬ কোটি টাকার রক্ত পাচারের অভিযোগ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্য দপ্তর ইতিমধ্যে কলকাতা পুলিশের সাহায্য চেয়েছে। আগেই মথুরাপুর থানায় এই ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছিল। 

    আজকাল ডট ইন-এর মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখার্জি বলেন, “মথুরাপুর থানা এলাকার এক প্রাইভেট ব্লাড ব্যাঙ্ক হিন্দুস্তান পয়েন্ট, যারা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প করছিল। তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা সেখানে গিয়ে তাদেরকে হাতেনাতে ধরে ফেলে। মথুরাপুরের হিন্দুস্তান পয়েন্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের মালিক দুই ভাই মিলে এই চক্র চালাচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এরাই ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্প এর নামে শুধু গিফট নয়, টাকাও দেয় এবং রক্ত কালেক্ট করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তারপর সেই রক্ত বাইরে পাচার করে। অন্তঃরাজ্যীয় একটা রক্ত পাচার চক্র চলছে। আমাদের স্বাস্থ্য বিভাগের একটি তদন্ত করা হয়েছে অভিযোগের ভিত্তিতে। তদন্ত করা কাজ যদিও আমাদের বিভাগের নয়, পুলিশের কাজ। যদিও পরে পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আবার জামিনও পেয়ে যায়। তবে লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। যাতে ভবিষ্যতে এরা এই ধরনের কাজ না করতে পারে সেই ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।”

    তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে বড় ব্যাপার ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পে কোনও প্রকার উপহার একেবারেই বেআইনি সেটা সাধারণ মানুষেরও জানা উচিত। আমরা আরও নজর রাখছি, যাতে এ ধরনের কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করা যায়। এছাড়াও খবর পেয়েছি কলকাতার আরও একাধিক জায়গায় এ ধরনের চক্র চলছে। যোধপুর পার্কের অশোক ব্লাড ব্যাংক, পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাংকের নামও আমাদের কাছে এসেছে। পুলিশকে জানানো হয়েছে, শীঘ্রই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

    যে রক্ত সাধারণ মানুষ দান করে নিজের আত্মীয়-পরিজনের জন্য, সেই রক্ত কেন চলে যাচ্ছে অন্য রাজ্যে? স্বাস্থ্য দপ্তরের এই কঠোর পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। তদন্ত শুরু করা হয়েছে। 
  • Link to this news (আজকাল)