• মন্দিরে চুরির পরে বোধোদয়, দেবালয়ের সামগ্রী ফিরিয়ে আত্মসমর্পণ ৩ চোরের!
    প্রতিদিন | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • একেই বুঝি বলে চোরের বোধোদয়। চুরি করে মানসিক অস্থিরতায় ভুগে শেষমেশ দোষ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ। চাঞ্চল্যকর এমন ঘটনার সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি বোদাগঞ্জের ভ্রামরী দেবীর মন্দির। শুক্রবার ধৃত তিন চোরকে জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, গত ৯ জুলাই রাতে ভ্রামরী দেবীর মন্দির সংলগ্ন অন্নপূর্ণা মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে।

    মন্দিরে ঢুকে দানবাক্স নিয়ে পালিয়ে যায় চোরের দল। কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মন্দির কমিটির সদস্যরা। তদন্ত নেমে বহুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও চোরেদের চিহ্নিত করতে পারছিল না পুলিশ। এদিকে ভ্রামরী দেবীর মত অত্যন্ত জাগ্রত এই মন্দির চত্বরে ঢুকে এমন কাজ কে করল, এই নিয়ে প্রশ্নও তৈরি হয়েছিল মন্দির কমিটির সদস্যদের মধ্যেও। যার কোনও উত্তরও দিতে পারছিল না পুলিশ।

    এরই মধ্যে ঘটে গেল চমৎকার! মন্দির কমিটির সদস্য প্রণবকুমার রায় জানান, বৃহস্পতিবার কৈলাশ রায়, মনোজিৎ রায় ও মিঠু ওরাওঁ নামে তুরুক ঘাট এলাকার বাসিন্দা তিন যুক্ত এসে দাবি করেন মন্দিরে ঢুকে দানবাক্স চুরি তারাই করেছেন। প্রথমে শুনে অবাক হয়ে ছিলেন সকলে। পরে নিজেরাই বাড়ি গিয়ে টাকা পয়সা ভর্তি দানবাক্স এনে মন্দির কমিটিকে জমা করেন। কারণ হিসেবে তিন জনই জানান, লোভের জেরে চুরি করেছিলেন। কিন্তু বাড়ি ফেরার পর থেকে অশান্তি কাজ করছিল মনে! খাওয়া ঘুম উড়ে গিয়েছিল। তিন জনেরই বাড়িতে একের পর এক দুর্ঘটনা এবং অসুস্থতার ঘটনা ঘটছিল।

    তাতেই পুলিশ নয়, অন্যরকম একটা আতঙ্ক পেয়ে বসে ওই চোরদের মনে। তখনই মনে হয় ঘোরতর অন্যায় করে বসেছেন তারা। এর থেকে মুক্তির জন্য আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন তারা। মন্দির কমিটির আরেক সদস্য তপন রায় বলেন, “একে চমৎকার ছাড়া আর কী বলব। যে কাজ পুলিশ করতে পারেনি আড়াল থেকে হয়তো ভগবানই তা করে দেখাল। তিন চোরই স্বীকার করেছে যে তারা পাপ করেছে। পাপের বোঝা লাঘব করার জন্যই দোষ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করেছে তারা।” ঘটনা ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। এদিকে, এই ঘটনায় পুলিশও হতবাক। শুক্রবার তিনজনকে জলপাইগুড়ি আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। গোটা চুরির ঘটনা তদন্ত করেও দেখা হচ্ছে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)