• ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলে মাওবাদীরা! মাও শহিদ সপ্তাহের আগে কড়া অ্যাকশনে পুলিশ
    প্রতিদিন | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • জঙ্গলে কি কোনও অপরিচিত ব্যক্তি ঘোরাফেরা করছে? গ্রামে কি আশ্রয় নিয়েছে বন্দুকধারী কেউ? সিপিআই (মাওবাদী) শহিদ সপ্তাহের আগে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান-ঝাড়খণ্ড সীমান্তের গ্রামে টহলের পাশাপশি খাটিয়া বৈঠক করে খোঁজ নিল পুলিশ। যে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তির খবর থাকলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর অনুরোধ রেখে যোগাযোগ নম্বর আদান প্রদান করল পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

    গোয়েন্দা রিপোর্ট বলছে, ১৪ বছর পর ঝাড়খণ্ডের সারাণ্ডা থেকে তাড়া খেয়ে পুরুলিয়ার ঝাড়খণ্ড সীমান্তের জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে মাওবাদীদের একটি দল। মাওবাদীদের অবস্থান বদলের খবর ঝাড়খণ্ড পুলিশের গোচরে আসার পরেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় একাধিক ফাঁকা শিবিরে ফের বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

    ফলে এই পরিস্থিতিতে মাওবাদীদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অসীম মণ্ডল ওরফে আকাশ ওরফে তিমির ওরফে মনোজ দা-সহ তাঁর স্কোয়াডে থাকা ১০ থেকে ১২ জন সশস্ত্র গেরিলা পুরুলিয়ার পাহাড়ঘেরা গ্রামগুলিতে আশ্রয় নিতে পারে। সমাজ বদলানোর স্বপ্ন দেখিয়ে বিপথে পরিচালিত করতে পারে এলাকার যুবক-যুবতীদের। তবে বামফ্রন্ট জমানার মতো আর এই বাংলায় বনপার্টিদের সাংগঠনিক কাজকর্মের যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে তার জন্য তৎপর হয়ে উঠেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।

    তাই শুক্রবার সকালে পুরুলিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন) বিদ্যাগড় অজিঙ্ক্যা অনন্তের নেতৃত্বে মানবাজার মহকুমা পুলিশ আধিকারিক শ্বাশতী শ্বেতা সামন্ত, বান্দোয়ান থানার ওসি মৃন্ময় ভকত-সহ সিআরপিএফ, কাউন্টার ইনসারজেন্সি ফোর্স, জুনিয়র কনস্টেবল (অ্যাসল্ট গ্রুপ) নিয়ে গ্রামে গ্রামে টহল শুরু হয়।

    পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, একেবারে ঝাড়খণ্ড ছুঁয়ে থাকা বান্দোয়ানের রাজগ্রাম, চৌড়া, কুলডাঙা, সাতারা, বুরুডি,চিরাগাজর ও আমঝর্না গ্রামে পুলিশ এরিয়া ডমিনেশন করে। এরপরে গ্রামের মানুষজনের সঙ্গে খাটিয়া বৈঠক করেন পুলিশ আধিকারিকরা। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি থেকে জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম পর্যন্ত প্রত্যেকের যোগাযোগ নম্বর সম্বলিত ছাপা কাগজে গ্রামবাসীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

    গোয়েন্দা সূত্রে খবর প্রতি বছর সিপিআই (মাওবাদী)-র তরফে ২৮ জুলাই থেকে ৩ রা আগস্ট পর্যন্ত তারা শহিদ দিবস পালন করে। ওই সময়ের মধ্যে মৃত সহযোদ্ধাদের প্রতি তারা সমবেদনা জানিয়ে জঙ্গলে শহিদ বেদী বানিয়ে মাল্যদান করে থাকে। এমনকি এলাকার মানুষজনকে সংগঠনে শামিল থেকে বাহিনী ও সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের মতো অপরাধও তারা অতীতে করেছে। তবে বাংলায় ২০১২ সাল থেকে বাংলা ছেড়ে ঝাড়খণ্ডে পালিয়ে যায় অবশিষ্ট কয়েকজন মাও কমরেড। ২৪ বছর পর ফের তারা সীমান্তের দলমা পাহাড়-সহ এই বনাঞ্চলের ফিরে আসায় নতুন করে বাংলার মাটিতে তারা যাতে আশ্রয় না পায় তার জন্য নজরদারিতে তৎপর হয়ে উঠেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ।
  • Link to this news (প্রতিদিন)