ক্যাগ রিপোর্ট পেশের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই মতো আজ, শনিবার বিধানসভায় ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এদিন প্রথমার্ধের অধিবেশনে মোট ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা হল। এই বিষয়ে বিগত তৃণমূল সরকারকেও একহাত নিয়েছেন মন্ত্রী। তৃণমূলের দুর্নীতি নিয়েও আরও একবার প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূল আমলে গত কয়েক বছর ধরে এইসব গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্ট পেশ হয়নি!
এই ক্যাগ রিপোর্ট পেশ না হওয়া বিধানসভার অন্দরে বড়সড় ত্রুটি, এমনই আখ্যা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আজ, শনিবার স্পিকার রথীন্দ্র বোসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন স্বপন দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, “কোনও জানা এবং অজানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই সিএজি রিপোর্টগুলি আমাদের বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। এটা একটা বড় সাংবিধানিক ল্যাপস।” তিনি আরও বলেন, “আপনারা জানেন, সংবিধানে কম্পট্রোলার এবং অডিটর জেনারেলের রিপোর্টের একটা সাংবিধানিক গুরুত্ব আছে। সব সরকারের দায়িত্ব সেটা বিধানসভায় পেশ করা।”
এদিন পেশ করা ২৮টি রিপোর্টে ২০২১ সাল থেকে ২৫ সাল পর্যন্ত একাধিক অর্থবর্ষের অডিট রয়েছে। কোন কোন বিষয়ে রিপোর্ট পেশ হয়েছে? প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবা, অঙ্গনওয়াড়ি ও আইসিডিএস পরিষেবা, পঞ্চায়েতি রাজ, আদিবাসী এলাকায় জমি ব্যবস্থাপনা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে রিপোর্ট পেশ হয়। রাজ্য সরকারের অর্থ দপ্তর, বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা-সহ আরও একাধিক বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বিধানসভায় স্পষ্ট বলেন, “আমরা সামনের দিনে পুরো একটা স্পেশাল অধিবেশন, স্পেশাল সেশন করতে চাই। যেখানে এই সিএজি রিপোর্টগুলি নিয়ে আলোচনা হবে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।” রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ও বিপুল দেনা নিয়েও এদিন বিধানসভায় সরব হয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত। সরকারের যে কোনও ত্রুটি মানুষের কাছে সর্বজনীনভাবে তুলে ধরাই বিজেপি সরকারের কর্তব্য। সেই কথাও এদিন জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।