চলন্ত বাসে বারবার বেজে উঠছিল হর্ন। মাঝপথে বাস থামিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মেরামতির চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু সেই যান্ত্রিক ত্রুটি আর শেষ পর্যন্ত প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়াতে পারেনি। কৃষ্ণনগর থেকে বর্ধমানগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রথমে একটি টোটোকে ধাক্কা মারে, তারপর রাস্তার ধারে নয়নজুলিতে উল্টে পড়ে। ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে টোটোযাত্রী মিহিজান বিবির। তিনি নাদনঘাট থানার পারুলডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা। আহত হয়েছেন আজমিরা খাতুন ও শাহারু বিবি।
তাঁদের কালনা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার কালনা থানার নান্দাই গাবতলা পেট্রোল পাম্পের সামনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তবে বাসটি নয়নজুলিতে পাট জাগ দেওয়া জায়গার উপর গিয়ে পড়ায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। বাসে থাকা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জন যাত্রী অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান।বাসযাত্রী বিশাল সাহার অভিযোগ, যাত্রাপথেই বাসে একাধিকবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। তাঁর দাবি, হর্ন হঠাৎ অটোমেটিক বাজতে শুরু করছিল। সেই কারণে বাস থামিয়ে খালাসি নেমে চাকার পাশে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে কিছুক্ষণ মেরামতির চেষ্টা করেন।
এরপর আবার বাস চলতে শুরু করে। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাসটি হঠাৎ বাঁ দিক থেকে ডানদিকে চলে গিয়ে একটি টোটোকে সজোরে ধাক্কা মারে এবং নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নয়নজুলির দিকে ছিটকে যায়। বিশাল সাহা বলেন, “মনে হচ্ছিল মৃত্যু একেবারে চোখের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। বাসটি যদি পুরো উল্টে জলে পড়ত, তাহলে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ভাগ্যবশত বাসের যাত্রীরা বেঁচে গেলেও এক নিরীহ গরিব মানুষের প্রাণ চলে গেল।”
তাঁর আরও অভিযোগ, চালক স্টিয়ারিং লক হওয়ার কথা বললেও বাসে আগে থেকেই যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সময় বাসটি সম্পূর্ণভাবে থামিয়ে যাত্রীদের নামিয়ে দেওয়া হলে হয়তো এই দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। তাঁর কথায়, “হর্নই বারবার বিপদের সংকেত দিচ্ছিল।”ঘটনার খবর পেয়ে কালনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটি উদ্ধার করার পাশাপাশি কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটল, বাসে আদৌ যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না এবং সেই অবস্থায় কেন বাসটি চলাচল করছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।