• রূপনারায়ণের তীরে বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা! দেউলটির ‘শরৎ কুঠি’ নিয়ে বড় দাবি বিধানসভায়
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • দেউলটির সামতাবেড় গ্রামে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বসতবাড়ি। পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে রূপনারায়ণ নদী। এখানেই জীবনের প্রায় ১২ বছর কাটিয়েছেন কথাসাহিত্যিক। বর্তমানে সেই বসতবাড়ি পর্যটকদের কাছেও বেশ জনপ্রিয়। এ বার শরৎচন্দ্রের সেই বাসভবন নতুন করে সাজিয়ে তোলার দাবি উঠল বিধানসভায়। বৃহস্পতিবার আমতার বিধায়ক অমিত সামন্ত রাজ্য সরকারের কাছে বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণের আবেদন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ওই এলাকায় বাৎসরিক শরৎ মেলাকে আরও বড় করে করার প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। চলতি বছর কথাসাহিত্যিকের ১৫০তম জন্মবর্ষ। সেই উপলক্ষে তাঁর জন্মস্থান হুগলি থেকে দেউলটি পর্যন্ত এক বিশেষ শোভাযাত্রার আবেদনও জানানো হয়েছে।

    দেউলটির এই শরৎ কুঠি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাক্ষী। এই বাড়িটি তৈরি হয়েছিল মিয়ানমারের স্থাপত্যের আদলে। শরৎচন্দ্র যখন এখানে থাকতেন, তখন নদী পেরিয়ে বিপ্লবীরা তাঁর কাছে আসতেন। এই বাড়িতে বসেই তিনি দেবদাস, দেনা-পাওয়া, মহেশ ও রামের সুমতি-সহ একাধিক উপন্যাস লিখেছিলেন। এমনকি, শরৎচন্দ্র নারী শিক্ষার প্রসারে ১৯২৫ সালে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন এই এলাকাতেই।

    ১৯৭৮ সালের বন্যায় এই বাড়ির ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তার পরে ২০০১ সালে তৎকালীন রাজ্য সরকার বাড়িটিকে হেরিটেজ ঘোষণা করে। আজও এই বাড়িতে কথাশিল্পীর ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা রয়েছে। সারা বছর ধরে অজস্র পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। তাঁরা কথাশিল্পীর বাড়ি দেখার পাশাপাশি রূপনারায়ণ নদীর সৌন্দর্যও উপভোগ করেন।

    প্রতি বছর এখানে শরৎ মেলা হয়। রাজ্য সরকার এই মেলাকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তুললে শরৎ অনুরাগীরা খুশি হবেন এবং এলাকার মানুষদের আয় বাড়বে বলেও আশাবাদী স্থানীয়রা। বিধায়কের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

    ১. দেউলটির ‘শরৎ কুঠি’র ঐতিহাসিক গুরুত্ব কী?

    কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর জীবনের শেষ ১২ বছর দেউলটির সামতাবেড় গ্রামের এই বাড়িতে কাটিয়েছিলেন। এখানে বসেই তিনি ‘দেবদাস’, ‘দেনা-পাওনা’, ‘মহেশ’ ও ‘রামের সুমতি’-র মতো বিখ্যাত উপন্যাস লেখেন। এছাড়া এটি স্বাধীনতা সংগ্রাামে বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা ছিল।

    ২. বিধানসভায় বিধায়ক অমিত সামন্ত ঠিক কী কী প্রস্তাব দিয়েছেন?

    তিনি ‘শরৎ কুঠি’কে বিশ্বমানের পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা, এখানকার ঐতিহ্যবাহী শরৎ মেলাকে তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া এবং হুগলি থেকে দেউলটি পর্যন্ত শোভাযাত্রার আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

    ৩. এই শরৎ কুঠিটি দেখতে কেমন এবং এটি কবে হেরিটেজ স্বীকৃতি পায়?

    বাড়িটি মিয়ানমারের (বার্মা) স্থাপত্যের আদলে রূপনারায়ণ নদীর তীরে তৈরি। ১৯৭৮ সালের বন্যায় বাড়িটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর, ২০০১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এটিকে ‘হেরিটেজ’ হিসেবে ঘোষণা করে।

  • Link to this news (এই সময়)