• অনুমতি দেয়নি হাইকোর্ট, পদ্মপুকুরে তৃণমূলের জমায়েত ঘিরে তুলকালাম, মমতা গিয়ে বললেন...
    এই সময় | ২৫ জুলাই ২০২৬
  • কালীঘাট-তৃণমূলের জমায়েতে অনুমতি দেয়নি কলকাতা হাইকোর্ট। পুলিশের অনুমতি না পাওয়ার পরেও শনিবার পদ্মপুকুরে তৃণমূলের জমায়েত। সেই জমায়েত ঘিরে পুলিশের সঙ্গে বচসা, ধস্তাধস্তিতে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পদ্মপুকুর এলাকা। সেখানে পৌঁছন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। অনুমতি ছাড়া জমায়েতের অভিযোগে বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ, বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়কে আটক করে লালবাজারে নিয়ে যায় পুলিশ।

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘হাইকোর্টের কথা শুনে Rally আমরা করছি না। কিন্তু পুলিশ কেন শান্তিপূর্ণ জমায়েতে বাধা দিচ্ছে? মাত্র ২ ঘণ্টার কর্মসূচি। আসলে ওরা ভয় পায় আমাদের। এর জবাব ওদের মানুষ দেবে। আমাদের কণ্ঠরোধ করা যাবে না।’

    নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘিরে গোটা দেশে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। শনিবার সেই ঘটনারই প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দেয় কালীঘাট তৃণমূলের ছাত্র-যুব শিবির। এ দিন দুপুরে সিআইটি রোড পদ্মপুকুর থেকে মৌলালি মোড় পর্যন্ত মিছিল করার কথা ছিল তাদের। অভিযোগ, পুলিশ প্রথমে মিছিলে অনুমতি দিলেও পরে তা বাতিল করে দেয়। মিছিলের অনুমতি দিয়ে কেন খারিজ? অভিযোগ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয় তৃণমূল।

    যদিও তৃণমূল ছাত্র পরিষদের মিছিলের অনুমতির আবেদন খারিজ করে দেয় হাইকোর্ট। শনিবার বিকেলে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানি শুরু হলেও সেখানে প্রথমে রাজ্যের তরফে কোনও আইনজীবী হাজির ছিলেন না। পরে অ্যাডভোকেট জেনারেল অনলাইনে হাজির হন। রাজ্য নতুন করে মিছিলের অনুমতিতে আপত্তি জানায়।

    আদালতের বক্তব্য, শুক্রবার শহরে একই ইস্যুতে এতগুলি মিছিল হলো, সেখানে যোগ দিতে পারত তৃণমূল। এই ভাবে যদি প্রতিদিন এক একটি সংগঠনের মিছিলে কোর্ট অনুমতি দিতে থাকে, তা হলে চূড়ান্ত সমস্যা তৈরি হবে। এ দিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। এর মধ্যে নতুন করে কাউকে অনুমতি দিলে আবার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে। দেশের অন্য বেশ কিছু রাজ্যে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এখন নতুন করে আর মিছিলের অনুমতি দিলে তার দায় আদালতের উপরে পড়বে।

    আদালত বলে, ‘সংবাদমাধ্যমে দেখেছি গতকাল কী হয়েছিল। গোটা দেশে আমাদের লক্ষ্য আছে।’ তৃণমূলের তরফে আইনজীবী অর্ক নাগ আদালতে জানান, দিল্লিতে ছাত্রদের উপরে পুলিশের লাঠিচার্জ ও তাঁদের দাবির সমর্থনে এ দিন পদ্মপুকুর থেকে মিছিলের জন্য পুলিশ প্রথমে অনুমতি দিয়ে পরে তা প্রত্যাহার করে। রাজ্যের বক্তব্য, কলকাতার ঘটনার পরে এই মুহূর্তে কোনও এমন ক্ষেত্রে অনুমতি দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

    আদালতের মতে, নাগরিকের আন্দোলনের অধিকার আছে। শান্তিপূর্ণ ভাবে জমায়েত করা যায়। কিন্তু কিছু অধিকার নিয়ন্ত্রিত। পরিস্থিতির উপরে নির্ভর করতে হয়। বৃহত্তর নাগরিক সমাজের স্বার্থে প্রশাসনের উপরে ভরসা সেখানে করতে হয়। দিল্লির আন্দোলন গোটা দেশে ছড়িয়েছে। বাদ নেই কলকাতাও। তাই আলাদা করে এখন আর একটা সংগঠনকে মিছিলের অনুমতি দেওয়া উচিত নয় বলে মনে করছে হাইকোর্ট। তাতে উত্তেজনা বাড়তে পারে। তাতে নাগরিক নিরাপত্তা খর্ব হবে। তাই আবেদন খারিজ করা হয়।

  • Link to this news (এই সময়)