বিগত ৬ জুন থেকে শুরু হয় NEET-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল এই আন্দোলন। শনিবার ধর্মেন্দ্রর পদত্যাগের পাশাপাশি ককরোচ জনতা পার্টির বাকি দাবিগুলিও মেনে নেয় সরকার। এর পরেই আন্দোলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির তরফে। তবে শুধুমাত্র নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাই নয়, আরও একাধিক দাবি নিয়ে শুরু হয়েছিল ককরোচদের পথচলা। কী কী দাবি রয়েছে ককরোচ জনতা পার্টির? দেখে নেওয়া যাক একনজরে।
রাজনৈতিক দল না হয়েও ২০২৬ সালের মে মাসে একটি আনুষ্ঠানিক ইস্তেহার প্রকাশ করে ককরোচ জনতা পার্টি। সেখানেই জানানো হয়েছিল তাঁদের দাবিগুলি, সেগুলি হলো—
১) কোনও প্রধান বিচারপতিকে অবসর-পরবর্তী পুরস্কার হিসেবে রাজ্যসভার আসন দেওয়া যাবে না।
২) যদি কোনও বৈধ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়, তবে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ‘বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন’-এর অধীনে গ্রেপ্তার করতে হবে; কারণ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া ‘সন্ত্রাসবাদের চেয়ে কম কিছু নয়’। (এটি ২০২৫ সালের ভারতীয় নির্বাচনী বিতর্কের প্রেক্ষিতে বলা হয়েছে)।
৩) সংসদের মোট সদস্যসংখ্যা না বাড়িয়েই নারীদের জন্য ৫০% আসন সংরক্ষণ (৩৩%-এর পরিবর্তে) করতে হবে। এছাড়া মন্ত্রিসভার ৫০% পদ নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
৪) স্বাধীন গণমাধ্যমের পথ প্রশস্ত করতে দুই নিৰ্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মালিকানাধীন সমস্ত মিডিয়া হাউসের লাইসেন্স বাতিল করতে হবে। ‘গোদি মিডিয়া’র (সরকার-ঘনিষ্ঠ সংবাদমাধ্যমের) সঞ্চালকদের ব্যাঙ্কের হিসাবের তদন্ত করতে হবে।
৫) কোনও বিধায়ক (এমএলএ) বা সাংসদ (এমপি) যদি এক দল ছেড়ে অন্য দলে যোগ দেন (দলবদল করেন), তবে তাঁকে আগামী ২০ বছরের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ও কোনও সরকারি পদে আসীন হওয়া থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়প্রকাশ নাড্ডা-সহ সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পরে দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় ককরোচরা। তবে বাকি দাবিগুলি নিয়ে তাঁরা কী আন্দোলন চালিয়ে যাবেন? বা আগামী দিনে এই দাবিগুলিকে নিয়েও তাঁরা নতুন করে আন্দোলন শুরু করবেন? তা নিয়ে এখনও নিজেদের অবস্থান জানায়নি ককরোচ জনতা পার্টি।