ফার্নেসে লোহার ছাঁট (স্ক্র্যাপ) দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ। বর্ধমানের পালিতপুরে একটি স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় বিস্ফোরণে জখম একাধিক। শনিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। সূত্রের খবর, গলিত লোহায় ঝলসে জখম হয়েছেন অন্তত ৩ জন। তাঁদের মধ্যে পঙ্কজ যাদব ও উমেশ যাদব নামে দুই শ্রমিক বর্ধমানের একটি নার্সিংহোমে ভর্তি। গত বছরের জুনে পালিতপুরের এই কারখানাটিতেই একই রকম দুর্ঘটনা ঘটে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল। জখম হয়েছিলেন প্রায় ১৫ জন। বর্ধমান থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য দিনের মতোই শনিবার পালিতপুরের শিল্প তালুকের ভিতরে থাকা ওই কারখানার চত্বরে শ্রমিকরা কাজ করছিলেন। সেখানে স্পঞ্জ আয়রন কারখানা ছাড়াও আরও ছোটো ছোটো তিনটি কারখানা রয়েছে। স্পঞ্জ আয়রন কারখানায় ৫টি চুল্লি রয়েছে। তারমধ্যে একটি চুল্লি চালু করার জন্যে লোহার ছাঁট দেওয়া হচ্ছিল। শ্রমিকদের দাবি, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চুল্লিটি ফেটে গিয়েছে।
শ্রমিকদের একাংশের অভিযোগ, চুল্লিগুলি রক্ষণাবেক্ষণের অভাব রয়েছে। গত বছরের ৯ জুন দুর্ঘটনা ঘটেছিল। তারও তিন বছর আগে পালিতপুরের কারখানাতে একই রকম দুর্ঘটনা ঘটেছিল। নিয়ম অনুযায়ী, চুল্লিগুলিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে চালু করতে হয়। সে সব নিয়ম মানা হয় না। সেই কারণেই এই দুর্ঘটনা বলে অভিযোগ। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় দাসের দাবি, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কারাখানার ওই ইউনিট আপাতত বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
কারখানার ম্যানেজার কমলেশ সিং বলেন, ‘ঠিক চলছিল। ১ নম্বর ভাটিতে এটা হয়েছে। খালি ভাটিতে হয়েছে। কোনও টেকনিক্যাল প্রবলেম হতে পারে। হালকা চোট লেগেছে। ছেলেগুলির সঙ্গে কথা বললাম, ওরা বলল ঠিক আছি।’