প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিলকে সমর্থনে নারাজ বিরোধীরা! সোমে উত্তাল হবে সংসদ
প্রতিদিন | ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রশ্নফাঁসকে ঘোর পাপ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই পাপের উপযুক্ত শাস্তির লক্ষ্যে প্রশ্নফাঁস আইন সংশোধনী বিল চলতি অধিবেশনেই লোকসভায় পেশ করার পরিকল্পনা সরকারের। তবে সূত্রের খবর, সংসদে এই বিলকে সমর্থন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিরোধীরা দলগুলি। এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই জল্পনা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তবে কী বিরোধীদলগুলি চায় না প্রশ্নফাঁসে যুক্ত অপরাধীরা কঠিন শাস্তি পাক?
বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অভিযোগ, ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা ও প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত সংশোধনী বিল আসলে মোদি সরকারের ‘স্টান্ট’। যন্তর মন্তরে পড়ুয়াদের উপর পুলিশি অত্যাচারের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সংসদে ক্ষমা চাইতে হবে। কেন পড়ুয়াদের উপর ছররা বন্দুক চালানো হল অমিত শাহকে জবাবদিহি করতে হবে। যদিও পড়ুয়াদের উপর এই ধরনের কোনও হামলা হয়নি বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তবে সূত্রের খবর, তৃণমূল ও কংগ্রেসের তরফে সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যদি প্রধানমন্ত্রী ক্ষমা না চান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে জবাব না দেন তবে সংসদে সরব হবে তারা। অনুমান করা হচ্ছে সোমবার এই ইস্যুতে উত্তাল হতে চলেছে গণতন্ত্রের পীঠস্থান।
গত ৩ মে ডাক্তারির সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের জেরে পরীক্ষা বাতিল করেছিল এনটিএ। হতাশায় বহু পড়ুয়া আত্মঘাতী হন। দেশজুড়ে দাবি ওঠে, পদত্যাগ করুন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রশ্ন ফাঁসটা ঘোর পাপ হয়েছে। তবে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সরকার পদক্ষেপ করেছে। ১৩ জন অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই জেলে পাঠানো হয়েছে। এখানেই শেষ নয়, প্রশ্নফাঁস মামলায় তদন্ত করার জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। পড়ুয়াদের দাবি মেনে ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এরইমাঝে সিদ্ধান্ত হয়, প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধ রুখতে কড়া আইন আনা হবে। সেই আশ্বাস পূরণ করে শুক্রবার ক্যাবিনেটে পেশ করা হয় পাবলিক এক্সামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যাক্ট, ২০২৪ সংশোধনী বিল। চলতি বাদল অধিবেশনে তা পেশ হতে চলেছে লোকসভায়।
সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, দোষীদের তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল, সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা-এসব শাস্তির ব্যবস্থা থাকবে। যেসমস্ত সংস্থা পরীক্ষা পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে, তারা দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিষ্ঠানের আধিকারিকদের পাঁচ থেকে ১০ বছরের জেল এবং ১ কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে। জরিমানার অঙ্কটা সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে এই নতুন আইনের জেরে। এবার জানা যাচ্ছে, সংসদে বিল পেশ হলেও তাকে সমর্থন করতে নারাজ বিরোধী শিবির।