কলকাতায় নারকো ‘টেররিজম’! ৫ কোটির হেরোইন পাচার করতে এসে জালে কুখ্যাত মাদক পাচারকারী
প্রতিদিন | ২৬ জুলাই ২০২৬
নারকো টেররিজমের ‘যোগ’ কলকাতায়ও। মণিপুর থেকে কয়েক কোটি টাকার মাদক পাচার কলকাতায়। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে কলকাতা স্টেশনে হানা দেয় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা নারকোটিক কন্ট্রোল ব্যুরো। এনসিবি-র গোয়েন্দাদের হাতে গ্রেপ্তার উত্তর পূর্ব ভারতের কুখ্যাত মাদক পাচারকারী মহম্মদ জায়েদ। তার ব্যাগভর্তি জামাকাপড়ের মধ্যে থেকেই উদ্ধার হয় এক কিলো হেরোইন। যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি টাকা বলে অনুমান গোয়েন্দাদের।
এনসিবি সূত্রের খবর, মণিপুরের ইম্ফলের বাসিন্দা জায়েদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে মায়ানমারের। উত্তর পূর্ব ভারত থেকে যে মাদক চক্রটি হেরোইন পাচার করে কলকাতা-সহ এই রাজ্যে, সেই চক্রের মাথা হচ্ছে জায়েদ। এর আগে অন্তত তিনবার সে মণিপুর থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক নিয়ে এসে পাচার করেছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর। চতুর্থবারের জন্য জায়েদ ইম্ফল নিজের ব্যাগের মধ্যে হেরোইনের প্যাকেট লুকিয়ে রেখে বাস পাল্টে উত্তরবঙ্গে আসে। সেখান থেকে ট্রেন ধরে রাতে পৌঁছে যায় কলকাতা স্টেশনে। সেই খবর গোয়েন্দাদের কাছে আসা মাত্রই স্টেশন চত্বরেই ফাঁদ পাতেন এনসিবির গোয়েন্দারা। সে স্টেশন থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করতেই অভিযুক্ত জায়েদকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন গোয়েন্দারা। পরীক্ষা করা হয় তার হাতে থাকা ব্যাগ। সেটি খুলতেই একেবারে চক্ষুচড়ক অবস্থা!
ধৃতের ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় সাদা রঙের গুঁড়ো। প্রাথমিক পরীক্ষার পর এনসিবির গোয়েন্দাদের ধারণা, এটি ভাল মানের হেরোইন। আন্তর্জাতিক বাজারে এর এক কিলোর দাম প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। গোয়েন্দাদের ধারণা, মায়ানমারের সীমান্ত পেরিয়ে বেহিয়াং, চূড়াচাঁদপুর হয়ে এই মাদক পৌঁছেছিল ইম্ফলের গোপন ডেরায়। ইম্ফল থেকে মাদক পাচার করা হয় ডিমাপুরে। সেখান থেকে কাছার-শিলচর রুট ধরে অসম তথা গুয়াহাটিতে পৌঁছয় ওই মাদক। এর পর উত্তরবঙ্গ হয়ে তা পাচার করা হয় কলকাতায়। কলকাতা থেকে এজেন্টদের হাত ধরে ওই মাদক পাচার হত দেশের অন্য শহরেও। আগে থেকেই কলকাতার মাদকচক্রের এজেন্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল উত্তর পূর্ব ভারতের ওই মাদক চক্র। কুখ্যাত পাচারকারী মহম্মদ জায়েদের উপরই ভার পড়েছিল এই মাদক পাচারের।
গোয়েন্দাদের মতে, এই মাদক পাচারের পিছনে রয়েছে নারকো টেররিজম। উত্তর পূর্ব ভারতের মাদকচক্রের সঙ্গে যুক্ত সেখানকার জঙ্গি সংগঠনগুলি। কলকাতা-সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক কোটি টাকায় মাদক পাচার করে তার বিনিময়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র কেনে তারা। ওই টাকা কাজে লাগে জঙ্গি তহবিল তৈরির ক্ষেত্রে। ফলে জায়েদের গ্রেপ্তারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দাবি এনসিবি-র গোয়েন্দাদের। তাকে জেরা করে একদিকে, কলকাতার মাদকচক্রের এজেন্ট, অন্যদিকে, উত্তর পূর্ব মাদক চক্রের মাথাদের সন্ধান চলছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দারা।