সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: চারচাকা গাড়ি থাকলেই সন্দেহভাজনের তালিকায় নাম উঠবে রেশন গ্রাহকের। তবে শুধু চারচাকা গাড়ি নয়, পিএম কিষান প্রকল্পে নথিভুক্ত প্রায় আড়াই একর জমি থাকলে কিংবা কোনো কোম্পানির ডিরেক্টর হিসাবে নাম থাকলেও সন্দেহজনক হিসাবে চিহ্নিত হবেন গ্রাহক। পরে ওই উপভোক্তার কার্ড সাময়িক ব্লক করার পর প্রয়োজনে বাতিলও করা হতে পারে। পুরুলিয়া জেলা খাদ্যদপ্তরে আসা এমনই এসওপি বা স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর ঘিরে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলায় তিন হাজারের বেশি গ্রাহককে সন্দেহের তালিকায় রেখেছে দপ্তর।
জেলা খাদ্যদপ্তরে ইতিমধ্যেই রাজ্য থেকে এসওপি পাঠানো হয়েছে। তা কোনো নির্দেশিকা হিসাবে পাঠানো হয়নি। তবে ওই এসওপি মেনেই কাজ হচ্ছে দপ্তরে। এসওপি অনুযায়ী পিএম কিষান প্রকল্পে নথিভুক্ত যে সব ব্যক্তির আড়াই একর জমি রয়েছে, তার নামও ‘সন্দেহজনক গ্রাহক’ হিসাবে এসেছে। এছাড়াও যাঁর নিজের নামে চারচাকা গাড়ি, মালবহনকারী গাড়ি কিংবা বড়ো কোনো গাড়ি আছে, তিনি সন্দেহজনক রেশন গ্রাহক হিসাবে চিহ্নিত হবেন। পাশাপাশি কেউ ছোটো বড়ো যে কোনো কোম্পানির ডিরেক্টর হলে কিংবা জিএসটি টার্নওভার ২৫ লক্ষ টাকা হলে গ্রাহকদের কার্ড সাময়িকভাবে ব্লক করা হবে। তারপর তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে দপ্তর। ইতিমধ্যে পুরুলিয়া জেলায় সন্দেহজনক রেশন গ্রাহক হিসাবে ৩ হাজার ২০০ জন চিহ্নিত হয়েছেন। ওই গ্রাহকদের কার্ড সাময়িকভাবে ব্লক করেছে দপ্তর। নথি যাচাইয়ের পর প্রয়োজনে কার্ড পুনরায় চালু করা হতে পারে কিংবা পুরোপুরি বাতিল করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
জেলা খাদ্যদপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সন্দেহজনক তালিকায় থাকা গ্রাহকদের কার্ড দপ্তর থেকে বন্ধ করা হলেও তাঁরা উপযুক্ত নথি সহ কার্ড পুনরায় চালু করার আবেদন করতে পারেন। সম্প্রতি একজন মুটে খাদ্যদপ্তরের অফিসে গিয়ে জানতে পারেন, তাঁর নামে চারচাকা গাড়ি থাকায় নাকি কার্ড ব্লক হয়েছে। কিন্তু, ওই ব্যক্তির কোনো চারচাকা গাড়ি নেই। সেকথা জানিয়ে তিনি পুনরায় কার্ড চালু করার আবেদন জানিয়েছেন।
জেলা খাদ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কোনো সরকারি নির্দেশিকা না এলেও দপ্তর থেকে একটি এসওপি পাঠিয়েছে। সেই সঙ্গে সন্দেহজনক গ্রাহকদের একটি তালিকাও এসেছে। সেই তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তবে কোনো গ্রাহকের কার্ড ব্লক হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে পুনরায় তা চালুর আবেদন করতে পারেন। ভুলভাবে কার্ড ব্লক হয়ে থাকলে ওই কার্ড পুনরায় চালু করা হবে। কোনো সমস্যা হবে না। জেলার রেশন ডিলার সংগঠনের নেতা প্রভাশিস লাল সিংদেও বলেন, নির্দেশিকার বিষয়টি জানি না। তবে অনেক উপভোক্তা রেশনের সামগ্রী নিতে এসে জানতে পারছেন, তাঁর কার্ডটি ব্লক হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।