• উলটো রথে শ্রীপাটে ফিরলেন জগন্নাথ, জনজোয়ারে ভাসল মাহেশ থেকে গুপ্তিপাড়া
    বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: শ্রীরামপুরের মাহেশ, বলাগড়ের গুপ্তিপাড়া, চন্দননগরে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা ও ভক্ত সমাগমে শুক্রবার পালিত হল ঐতিহ্যবাহী উলটো রথ। এর পাশাপাশি ছোটো এবং নবীন রথযাত্রা ঘিরেও ভক্তদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার সকাল থেকেই মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায় ভিড় জমতে শুরু করে। দুপুরে ভিড় জমে চন্দননগরে। সময় গড়ানোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভিড়। সন্ধ্যা গড়ানোর পর মাহেশের কুঞ্জবাটি ও গুপ্তিপাড়ার গুণ্ডিচা বাড়ি অর্থাৎ মাসির বাড়ি থেকে দাদা ও বোনকে নিয়ে জগৎপতি শ্রীপাটে অর্থাৎ মন্দিরে ফিরেছেন। মহা সমারোহে জগৎপতিকে নিয়ে ফেরেন অগণিত ভক্ত। এদিন মাহেশে আসেন হুগলির প্রাক্তন সাংসদ ও রাজ্য বিজেপির নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়।

    উলটো রথের জন্য জেলাজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন হয়েছিল। মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ার বাঁধভাঙা ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ছিল বেশি মাত্রায় কড়াকড়ি। উৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান হুগলির গ্রামীণ ও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষকর্তারা। মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, ‘ব্যাপক ভক্ত সমাগম হয়েছিল। ভক্ত সঙ্গেই জগৎপতি শ্রীপাটে ফিরেছেন। আমাদের রথ এবার ৬৩০ বছরে পা দিয়েছে।’ উলটো রথের পরও মাহেশে কিছু আচার থাকে। তার মধ্যে জগৎপতির অনুরোধে ও উপহারে লক্ষ্মীদেবীর মানভঞ্জন পর্ব আছে। অন্যদিকে গুপ্তিপাড়ার রথযাত্রা আয়োজক কমিটি তথা বৃন্দাবন জিউ মন্দির জানিয়েছে, সুষ্ঠুভাবে জগৎপতি মূল মন্দিরে ফিরেছেন।

    মাহেশ ও গুপ্তিপাড়ায় সকালের দিকে খানিক বৃষ্টি হলেও ভক্তদের উৎসাহে ভাটা পড়েনি। মাহেশে জিটি রোডের ধারে জগন্নাথের মাসির বাড়ি, কুঞ্জবাটি। গুপ্তিপাড়া বড়বাজারে আছে বৃন্দাবন জিউ মন্দিরের জগৎপতির মাসির বাড়ি। এদিন দুই মাসির বাড়ি থেকেই উলটো মুখে যাত্রা করে শ্রীপাটে ফেরেন জগৎপতি। সেই উৎসবই উলটো রথ। যদিও ৬৩০ বছরের মাহেশ বা দ্বিশতবর্ষ পেরিয়ে যাওয়া গুপ্তিপাড়াই নয়, ভিড় জমেছিল চন্দননগরের যাদুবাবুর রথ থেকে পাণ্ডুয়া, চুঁচুড়ার একাধিক উলটো রথেও। জেলাজুড়েই এদিন মেলা হয়েছে। রথযাত্রা দর্শনে পুণ্যলাভের সঙ্গে পেটপুজোর আয়োজনে মাততেও দেখা যায় মানুষকে। জিলিপি ও পাঁপড় ভাজার পাশাপাশি গুটকে সন্দেশ, বালা সন্দেশ সংগ্রহের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। জগৎপতি শ্রীপাটে ফিরবেন বলে এদিন বিভিন্ন মন্দিরে বিশেষ পুজোর আয়োজন হয়েছিল। ফলে একাধিক মন্দিরে জমেছিল ভিড়। সবমিলিয়ে 

    নির্বিঘ্নে জগৎপতির সঙ্গে ঘরে ফেরে ভক্তকুল।  নিজস্ব চিত্র
  • Link to this news (বর্তমান)