সরকার বদলের পর আড়াই মাসে রাজস্ব বৃদ্ধি ১৫ শতাংশ: অর্থমন্ত্রী
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর গত আড়াই মাসে রাজস্ব আদায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ গত বছর মে থেকে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত যে রাজস্ব আদায় হয়েছিল, এবার এই সময়ে আদায় হয়েছে তার ১৫ শতাংশ বেশি। শুক্রবার মার্চেন্টস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে একথা জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। পাশাপাশি তিনি বলেন, ‘রাজ্যে তৃণমূলের জমানায় যে তোলাবাজি চলছিল, তা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। অনেকটা কমানো গেলেও আড়াই মাসে সবটুকু বন্ধ করা সম্ভব নয়। তবে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো গিয়েছে। আগামী দিনে তা বন্ধ হবে। সরকার এত অল্প সময়ে মিরাকেল করতে পারে না। বরং সরকার যে এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর, সেই বার্তা পৌঁছে দেওয়া গিয়েছে।’
এদিন আয়কর বিভাগ আয়োজিত অন্য একটি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কর বা রাজস্ব আদায়ে কেন্দ্রের অনেক হাতিয়ার আছে, যা রাজ্য সরকারের নেই। তবে এখানে আগে কর ফাঁকির যে রাস্তাগুলি ছিল, সেগুলি বন্ধ করে কর আদায় বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে।’ বণিকসভার অনুষ্ঠানে এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা করের হার বাড়ানোর পক্ষে নই। মাঝারি মাপের কর ব্যবস্থা চালু রেখে তা আদায়ে দক্ষতা বৃদ্ধিই মূল লক্ষ্য। রাজ্যের ঘাড়ে যে বিপুল অঙ্কের দেনা রয়েছে, তার সঙ্গে মোকাবিলা করার জন্য অন্যতম অস্ত্র রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি। শিল্প আরও বেশি করে এলে যেমন রাজস্ব বাড়বে, তেমনই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকাও কাজে আসবে। রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নে ওই টাকা যথেষ্ট সাহায্য করবে। পাশাপাশি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের মতো সংস্থাও এই কাজে সহায়তা দেবে।’ তিনি জানান, এ রাজ্যে যাতে এআই বা অ্যানালিটিক্সের মতো প্রযুক্তিভিত্তিক সংস্থা আরও বেশি করে আসে, সেই চেষ্টা চালানো হচ্ছে। কারণ, তাতে কয়েক গুণ বেশি কাজের সুযোগ থাকে। তবে উৎপাদন শিল্পে লগ্নি যে তড়িঘড়ি আসা সম্ভব নয়, তাও স্বীকার করে নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সিঙ্গুর ইস্যু রাজ্যের কলঙ্ক। সেই কলঙ্ক কাটিয়ে নতুন বিনিয়োগে আস্থা ফেরাতে সময় লাগবে।’ তবে অর্থমন্ত্রীর আশা, এই ক’মাসে নতুন সরকারের যে সুনাম হয়েছে, তা সদর্থক ভূমিকা নেবে এক্ষেত্রে। এদিন বণিকসভার তরফে সরকারের কাছে অভিযোগ ছিল,
রাজ্যে বিদ্যুতের মাশুল বেশি। সেই অভিযোগে মান্যতা দিয়ে স্বপনবাবু বলেন, ‘দেশের বেশি বিদ্যুৎ মাশুলের রাজ্যগুলির মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ অন্যতম।’ দাম কমানো হবে কি না, তা স্পষ্ট না করলেও অন্য কোনো সংস্থাকে পরিষেবা প্রদানের রাস্তা করে দেওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘এখানে রাজ্য বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা যে পরিষেবা দিচ্ছে, তাতে যদি সন্তুষ্টি না থাকে, তাহলে অন্য কোনো সংস্থাকে সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি দেখা দরকার।’ এ বিষয়ে শিল্প মহলকেই দাবি তোলার আহ্বান জানান তিনি।