স্কুলপাঠ্য পরিবর্তনে নয়া সিলেবাস কমিটি, রয়ে গেল একাধিক প্রশ্নও
বর্তমান | ২৬ জুলাই ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্ষমতায় এসেই স্কুলস্তরে সিলেবাস পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করেছিল নতুন সরকার। তার জন্য এবার নয়া কমিটিও ঘোষণা করে দিল শিক্ষাদপ্তর। কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানালিটিক্যাল কেমিস্ট্রির অধ্যাপক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়কে। মেম্বার সেক্রেটারি হয়েছেন স্কুলশিক্ষা দপ্তরের যুগ্ম অধিকর্তা অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়। মেম্বার সেক্রেটারির সহযোগী হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সহঅধিকর্তা অনিন্দ্যকুমার চট্টোপাধ্যায়কে। দেবাশিসবাবু বলেন, ‘সবে দায়িত্ব পেয়েছি। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব।’
অর্ডারে বলা হয়েছে, এই কমিটি বৈঠক করে দু’মাসের মধ্যে প্রাথমিক প্রস্তাব জমা দেবে। তিন মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দেবে দপ্তরকে। জাতীয় শিক্ষানীতি এবং ন্যাশনাল কারিক্যুলাম ফ্রেমওয়ার্কের ভিত্তিতে সিলেবাস রিভিউ করবে তারা। নোটস এবং পুঁথিনির্ভর মুখস্থবিদ্যা থেকে পড়ুয়াদের বার করে এনে বিষয়কে সঠিকভাবে বোঝানোর জন্য সিলেবাসে যথাযথ পরিবর্তন আনতে হবে। একই সঙ্গে মূল্যায়ন ব্যবস্থা নিয়েও মতামত দেবে কমিটি। দুর্বল পড়ুয়াদের মানসিক চাপ না দিয়ে কীভাবে তাদের প্রস্তুতিতে বিশেষ জোর দেওয়া যায়, সেই সুপারিশ করবে কমিটি। ১৫ জুলাই যে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিভিউ মিটিং হয়েছিল, তার ভিত্তিতেই এই কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে, এই কমিটি গঠন নিয়ে বেশ কিছু ধোঁয়াশা এবং প্রশ্নও রয়েছে। গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, জীবনবিজ্ঞান, বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ভূগোল, শারীরশিক্ষা এবং কর্মশিক্ষার কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক স্তরে আলাদা করে পদার্থবিদ্যা বা রসায়ন নেই। রয়েছে ভৌতবিজ্ঞান। সেক্ষেত্রে দু’টি বিষয়ের কমিটি একত্রে সিলেবাস তৈরি করবে কি না, সে প্রশ্ন উঠছে। দ্বিতীয়ত, উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে অন্তত ৬৫টি বিষয় রয়েছে। সেগুলির ক্ষেত্রে কী হবে, তা স্পষ্ট নয়। তৃতীয়ত, এই কমিটিতে কলকাতা, যাদবপুর বা প্রেসিডেন্সির মতো অগ্রণী বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অধ্যাপকদের রাখা হয়নি। এমনকি, কলকাতা বা শহরতলির কোনো নামী কলেজের অধ্যাপকেরও ঠাঁই হয়নি। তাছাড়া, প্রাথমিকের সিলেবাসে বিশেষভাবে জোর দিতে হয়। কারণ, শিশুমন কতটা কীভাবে নিতে পারবে, তা বোঝার জন্য চাইল্ড পেডাগগির জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। এই কমিটিতে সে বিষয়ে শিক্ষিত প্রাথমিক শিক্ষকদেরও রাখা হয়নি।
প্রকাশিত কমিটিতে প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতিদের রাখা হয়েছে। যদিও বিধি অনুযায়ী এই সিলেবাস কমিটি সংশ্লিষ্ট পর্ষদ এবং সংসদগুলিরই গঠন করার কথা। তৃণমূল সরকারের মতো বিজেপি সরকারও সেই নিয়মকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অনেক শিক্ষাবিদের অভিযোগ। সংশ্লিষ্ট সদস্যদের বাইরে অতিরিক্ত সদস্যকে নেওয়া যাবে কমিটিতে। সরকারি আধিকারিক ছাড়া বাকিরা সবাই ১০ হাজার টাকা এবং যাতায়াতের খরচ পাবেন। অর্থ ব্যয় হবে সমগ্র শিক্ষা মিশনের বাজেট থেকে।