এই সময়: বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সভাকক্ষে সাত জনের কম মন্ত্রী হাজির থাকলে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পিকারকে আরও কড়া হওয়ার অনুরোধও করেছেন।
বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। কিন্তু বদলায়নি অধিবেশনের মাঝপথে বিধায়কদের বিধানসভা ছেড়ে চলে যাওয়ার অভ্যেস। দু’দিন আগে তা নিয়েই উষ্মা প্রকাশ করতে দেখা যায় স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকে। শনিবার বিধায়ক–মন্ত্রীদের গা–ছাড়া মনোভাব নিয়ে তাঁদের সতর্ক করতে দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রীকেও। বিধানসভায় তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন ভাষণে বলেন, ‘শুধু নেমপ্লেট ঝুলিয়ে রাখার জন্য আপনাদের বিধানসভার এক ও দু’তলায় ঘর দেওয়া হয়নি।’ সূত্রের খবর, বিজেপির অনেক বিধায়কও মন্ত্রীদের সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে পাচ্ছেন না। তা নিয়ে দলের বিভিন্ন স্তরে ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন তাঁরা। সম্ভবত সেই খবর পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। বিধায়কদের সমস্যা দূর করতে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী এ দিন মন্ত্রীদের উদ্দেশে বলেন, ‘পরের অধিবেশনে বিধায়কদের জানিয়ে দেবেন, আপনাকে কবে তাঁরা পাবেন (হাউসে)। অধিবেশন চলাকালীন আপনাকে বিধায়কদের সঙ্গে বিধানসভায় দেখা করতে হবে। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত থাকতে হবে।’ শুভেন্দুর এই কথা শুনে বিধায়করা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। যদিও তখনও বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে হাতে গোনা কয়েকজন মন্ত্রী–ই হাজির ছিলেন।
স্পিকারকে আরও কড়া হওয়ার অনুরোধ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিধানসভার অধিবেশন চলাকালীন সাত জনের কম মন্ত্রী থাকলে আপনি হাউস মুলতুবি করে দেবেন। পরিষদীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব, অন্তত সাত জন মন্ত্রীকে বিধানসভা কক্ষে হাজির রাখা।’ তখন মুখ্যমন্ত্রীর পাশেই বসেছিলেন পরিষদীয় মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
তৃণমূল জমানাতেও বিধানসভা অধিবেশনে বিধায়কদের উপস্থিতির হার নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এই জমানাতেও খুব বেশিদিন অধিবেশন না হলেও বিধায়কদের উপস্থিতির হার খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়। যা নিয়ে এ দিন স্পিকারকে একটি প্রস্তাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। স্পিকারের উদ্দেশে তাঁর অনুরোধ, ‘বিধায়কদের উপস্থিতির হার নিয়ে আপস করবেন না।’ মুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাব, ‘বিধানসভার ওয়েবসাইট চালু করুন। অধিবেশন শেষে বিধায়কদের উপস্থিতির হার সেখানে আপলোড করে দিন। মানুষ দেখুক, তার এলাকার বিধায়ক কত দিন বিধানসভায় আসছেন।’ মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, ‘এমনিতে লাইভ হচ্ছে বলে আপনারা অনেকেই বিপদে পড়েছেন। এলাকার লোক প্রশ্ন তুলছেন, অমুককে রোজ দেখা যাচ্ছে, আপনাকে একদিনও দেখা যাচ্ছে না কেন?’ বিধানসভায় হাজিরার ক্ষেত্রে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকিকে সার্টিফিকেট দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এ ক্ষেত্রে নওশাদ সিদ্দিকি একটু বেশি নম্বর পেয়ে যাবেন।’