• প্রশ্ন-ফাঁসে দু’মাসে তদন্ত শেষের দিশা, সোমেই বিল পেশ?
    এই সময় | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • সুদেষ্ণা ঘোষাল, নয়াদিল্লি:

    ‘নিট’ প্রশ্নফাঁসের মতো পরিস্থিতি যাতে আগামী দিনে না–হয়, তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র যে নতুন আইন আনছে, তা দু’দিন আগে মধ্যরাতের ফেসবুক বার্তায় ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আগামিকাল, সোমবার সংসদে ‘দ্য পাবলিক এগজ়ামিনেশনস (প্রিভিনেশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’ পেশ করতে পারেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সরকারি সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যেই এই বিলটিকে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা৷ এই নতুন আইনে প্রশ্নফাঁসকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধানও রাখা হচ্ছে বলে শুক্রবারই জানা গিয়েছিল। নতুন এই আইনে আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের সংস্থান রাখা হচ্ছে।

    সূত্রের খবর, মোদী সরকার প্রণীত এই বিলে থাকতে পারে— প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার অভিযোগ দায়েরের দু’মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করতে হবে পুলিশ, সিবিআই বা এসটিএফকে৷ পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে নিম্ন আদালতে কেসের ট্রায়ালও। অভিযোগের গুরুত্ব বুঝে এই ধরনের মামলার দ্রুত ও টাইম–বাউন্ড নিষ্পত্তির জন্য দেশের মেট্রো শহরগুলিতে গড়া হতে পারে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট৷

    এর আগে ২০২৪–এ প্রশ্ন ফাঁস রোখার লক্ষ্যে এমন একটি বিল পাশ হয়েছিল সংসদে৷ এই বিলের ১০ নম্বর ধারা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসে অভিযুক্ত এক জন ব্যক্তির ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ বছরের জেল এবং ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান আছে। বিলের সেকশন ১১ অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসে সঙ্ঘবদ্ধ চক্রান্তের প্রমাণ মিললে পাঁচ থেকে দশ বছরের জেল এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার সংস্থান আছে। এ বার পুরোনো বিলে সংশোধনী নিয়ে এসে কেন্দ্রীয় সরকার প্রশ্নফাঁসে যুক্ত দোষীদের আরও কড়া এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির বিধি আনতে চাইছে৷ আইনি দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে ধারা সংশোধিত আইনে ১২এ এবং ১২বি ধারা যুক্ত করা হচ্ছে। অত্যন্ত ব্যতিক্রমী ও লিখিত কারণ ছাড়া আদালত একদিনের বেশি এই ধরনের মামলার শুনানি মুলতুবি রাখতে পারবে না বলে বিধিতে উল্লেখ থাকতে পারে। ট্রায়াল কোর্টের যে কোনও রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) আপিল করতে হবে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে। হাইকোর্টের দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চকে তিন মাসের মধ্যে সেই আপিলের নিষ্পত্তি করতে হবে। অভিযুক্তের সাজা নিশ্চিত করতে নিয়োগ করা যাবে স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটরকে। দিল্লিতে সরকারি সূত্রের দাবি, এই বিলে পূর্ণ সমর্থন জানানোর জন্য শাসক শিবিরের তরফে বিরোধীদেরও আহ্বান জানানো হবে৷

  • Link to this news (এই সময়)