• ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া শুভেন্দু অধিকারীর?
    এই সময় | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে সরব হয়েছিল আন্দোলনকারী থেকে বিরোধীরা। ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্বে দেশের রাজধানীতে শুরু হওয়া প্রতিবাদের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে গোটা দেশে। সময়ের সঙ্গে ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিও জোরালো হয়। এর পরেই শনিবার দুপুরে পদত্যাগ করেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাতে এক্স হ্যান্ডলে করা একটি দীর্ঘ পোস্টে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন তিনি। পরিস্থিতির কারণে দেশের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হলেও ধর্মেন্দ্র প্রধানে অতীতের একাধিক কাজে সাফল্যের তালিকাও দিয়েছেন তিনি।

    শুভেন্দু অধিকারী পোস্টের বঙ্গানুবাদ—

    কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানজি তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এই ঘটনায় আমার মন ভারাক্রান্ত। পাবলিক লাইফে অনেক সময় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কিন্তু দেশ গঠনে তাঁর যে অবদান, তা আগামী বহু প্রজন্ম মনে রাখবে।

    তাঁর দায়িত্বকাল ছিল একাধিক যুগান্তকারী সংস্কারের সাক্ষী, যা আগামী বহু বছর ধরে ভারতের ভবিষ্যৎ গড়ে দেবে। ন্যাশনাল এডুকেশন পলিসি ২০২০ (National Education Policy 2020)-এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থার ভিত গড়ে তুলেছিলেন, যা প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার ভিত্তি আরও মজবুত করবে, বহুমুখী শিক্ষাকে উৎসাহ দেবে এবং দেশের যুবসমাজকে উন্নত দক্ষতায় সজ্জিত করে বিশ্বমঞ্চে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার যোগ্য করে তুলবে। তাঁর লক্ষ্য শুধু শিক্ষা দেওয়া ছিল না, বরং ভারতের মূল্যবোধের শিকড় রেখে প্রতিটি তরুণ-তরুণীকে বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।

    পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা বাস্তবায়িত হয়েছিল। এই প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন রান্নার জ্বালানির সুবিধা পৌঁছে গিয়েছে কোটি কোটি মহিলার কাছে। এর ফলে তাঁদের মর্যাদা, স্বাস্থ্য ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

    পূর্ব ভারতের মানুষের কাছে মিশন পূর্বোদয়-এর প্রতি তাঁর অটল প্রতিশ্রুতি সবসময় বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। তিনি দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করতেন, পশ্চিমবঙ্গ-সহ পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির বিপুল সম্ভাবনা, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং মানবসম্পদই ভারতের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হতে পারে। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গির ফলে পূর্ব ভারত সেই গুরুত্ব ও নীতিগত অগ্রাধিকার পেয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে প্রাপ্য ছিল।

    ইতিহাস তাঁদেরই মনে রাখে, যাঁরা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, মানুষের জীবন বদলে দেন এবং দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যান। ভারতের শিক্ষা, নারী ক্ষমতায়ন এবং পূর্ব ভারতের উন্নয়নে শ্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানজির অবদান আগামী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

  • Link to this news (এই সময়)