• সড়ক–সেতুর কাজ সময়ে শেষ করার নির্দেশ টাস্কফোর্সের বৈঠকে
    এই সময় | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: বিগত সরকারের আমলে উন্নয়নমূলক যে কোনও কাজে প্রধান অন্তরায় ছিল কেন্দ্র-রাজ্য সমীকরণ। সড়ক হোক বা সেতু—কেন্দ্র ও রাজ্যের সমন্বয়, জমি জট, ক্ষতিপূরণ-সহ বিভিন্ন কারণে বহু প্রকল্প এখনও আটকে। বর্তমান রাজ্য সরকার সমন্বয়ে জোর দিয়েছে। আটকে থাকা প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করতে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ, পূর্ত দপ্তর এবং রেলকে নিয়ে তৈরি হয়েছে টাস্কফোর্স। শনিবার সেই টাস্কফোর্সের প্রথম বৈঠক হলো। আলোচনায় উঠে এসেছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে বাধা জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ, সমন্বয়ের অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা। এগুলি কাটিয়ে দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে—এমনটাই বৈঠকে ঠিক হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্যার দ্রুত সমাধান করতে হবে।

    রাজ্যে ২১টি জাতীয় সড়ক প্রকল্পের পাশাপাশি রেলের ১২৭টি ওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসের কাজ আটকে রয়েছে। ৩,৯১০ কিলোমিটার জাতীয় সড়কের মধ্যে ২২৬৫ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণ করে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। ১৩২৪ কিলোমিটারের দায়িত্বে পূর্ত দপ্তর। ৩২১ কিলোমিটার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে জাতীয় সড়ক পরিকাঠামো উন্নয়ন নিগম। রাজ্যের বড় প্রকল্পগুলির একটি হলো খড়্গপুর-মোরগ্রাম ইকোনমিক করিডর। কয়েক হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পে, জমি অধিগ্রহণ আংশিক শেষ হলেও নির্মাণকাজ শুরুই হয়নি। কোথাও ক্ষতিপূরণের টাকা সম্পূর্ণ বিলি হয়নি, কোথাও আবার বিদ্যুৎ লাইনের স্থানান্তর বা বিভিন্ন দপ্তরের অনুমোদন বাকি। বীরভূম ও মুর্শিদাবাদের কিছু অংশে জমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। পূর্ব বর্ধমানে স্থানীয়দের আপত্তি ও আন্দোলনের জন্য সমীক্ষার কাজ বাধার মুখে পড়ছে।

    হাওড়ার ছয় লেনের এলিভেটেড কোনা এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজ এগোতে পারছে না মূলত চারটি বাড়ি উচ্ছেদ, ট্র্যাফিক ডাইভারশন অনুমোদন এবং সিইএসসি-র বৈদ্যুতিক কেবল স্থানান্তর না হওয়ায়। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা সংস্থার মতে, প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টার জন্য ট্র্যাফিক নিয়ন্ত্রণের কাজে পুলিশের সহযোগিতা না পেলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করা কঠিন। বৈঠকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত কাজ শেষ করতে হবে।

    উত্তরবঙ্গে আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের বিভিন্ন জাতীয় সড়ক প্রকল্পেও একই সমস্যা। এনএইচ ৩১-ডি এর চার লেন প্রকল্পে কাজ এগোলেও ক্ষতিপূরণ, দোকান সরানো এবং ফের জমি সমীক্ষার কাজ শেষ না হওয়ায় নির্মাণে দেরি হচ্ছে। সেবক-রংপো এবং লা–ভামোর-পেডং প্রকল্পেও বন দপ্তরের ছাড়পত্র এবং জমি অধিগ্রহণই প্রধান বাধা। দ্রুত সেই সমস্যা মেটানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবিত বারাণসী-কলকাতা করিডর কেন্দ্র এবং রাজ্যের ফ্ল্যাগশিপ প্রকল্প। প্রায় ২৩৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরের সম্ভাব্য খরচ প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। বেশ কিছু জেলায় জমির রেকর্ড পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে প্রকল্পটি এখনও পরিকল্পনার স্তরেই রয়েছে। নবান্নর তরফ জেলাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সমস্যা সমাধানে কোনও বাধা এলে বিকল্প পথে দ্রুত সমাধান করতে হবে। সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, বিপজ্জনক রেলগেটগুলিতে ওভারব্রিজ তৈরি করা হবে। পর্যালোচনায় দেখা গিয়েছে, বহু প্রকল্পের পরিদর্শন শেষ হলেও নকশা অনুমোদন এবং বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ের অভাবে কাজ ধীর গতিতে এগোচ্ছে। নবান্নের নির্দেশ, জমি জট মেটানোর জন্য প্রয়োজনে জেলাস্তরে কমিটি তৈরি করে সমস্যা মেটাতে হবে।

  • Link to this news (এই সময়)