নিয়ন্ত্রণ রেখা অতিক্রম করে ভারতের মধ্যে ঢুকে পড়েছিল পাকিস্তানের সেনা। পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিতে এবং দেশের মাটি রক্ষার স্বার্থে ‘অপারেশন বিজয়’ শুরু করেছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। প্রায় দু’মাস ধরে চলা যুদ্ধে জয়ী হয়েছিল ভারত। বীরবিক্রমে পাকিস্তানের সেনাকে শিক্ষা দিয়েছি ইন্ডিয়ান আর্মি। ২৭ বছর আগেকার সেই দিনের কথা মনে করলে আজও রক্ত গরম হয়ে ওঠে রিষড়ার মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সেই দিনের পরাক্রম বাহিনীর সদস্য ছিলেন তিনিও। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছিলেন সীমান্তে। ‘বিজয় দিবস’-এ সেই কথাই ‘এই সময়’-কে জানালেন প্রাক্তন সেনাকর্মী মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়।
রিষড়ার পঞ্চানন তলার বাসিন্দা মনোজ ২১ বছর বয়সে সেনার ইউনিফর্ম পরেছিলেন। ভারতীয় সোনার পোশাকে দীর্ঘ ৩১ বছর দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত , অরুণাচলের শিলটফ থেকে জম্মুর নাগরোটা, দেরাদুন, রাঁচি সব জায়গায় ডিউটি করেছেন মনোজ। তবে কার্গিল যুদ্ধের স্মৃতি চিরস্মরণীয়।
মনোজ ছিলেন ইন্ডিয়ান আর্মির আর্টিলারি বিভাগে। অধীনে থাকতো ৬০০ জন জওয়ান। কাজ ছিল লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া। মনোজ ছিলেন ১৯৭ মিডিয়াম রেজিমেন্ট-এ। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান পাহাড়ের উপর থেকে লড়াই করছিল। আমরা ছিলাম নীচে বাঙ্কারে। বাইরে আসার উপায় ছিল না। সবসময় বাঙ্কারের নীচেই থাকতাম।’ মনোজ জানান, ডিউটির কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না। তাঁর কথায়, ‘খাওয়া বা চুল-দাড়ি কাটার সময় ছিল না। পায়ের জুতো পর্যন্ত খুলতাম না। শুকনো খাবার খেতাম।’
মনোজ জানান, সেই যুদ্ধে বোফোর্স কামান অনেকটাই সাহায্য করেছিল সেনাবাহিনীকে। পাহাড়ি উপত্যকায় পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াইয়ে বোফোর্স ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। তাঁর বক্তব্য, ‘বোফোর্স এমন একটা অস্ত্র যা পাহাড় টপকে লক্ষ্যভেদ করতে পারত। ওটা ছাড়া কার্গিল-এর লড়াই সম্ভব ছিল না। বোফোর্সের জন্যই কার্গিলের যুদ্ধ সফল হয়েছে। ভারতের পক্ষে বোফোর্স কেনা অত্যন্ত ভালো সিদ্ধান্ত ছিল।’
যুদ্ধের আজ প্রায় ২৭ বছর অতিক্রান্ত। তবে আজও যেন প্রতিটি মুহূর্ত চোখের সামনে ভাসে মনোজের। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহস ও আত্মবিশ্বাসই সাফল্য এনে দিয়েছিল বলে জানান তিনি। মনোজ বলেন, ‘ ভারতীয় সৈনিকরা কখনও ভয় পায় না। সেনায় যোগ দেওয়ার সময়েই আমরা প্রতিজ্ঞা করি দেশের জন্য লড়ব। কার্গিলে অনেক সৈনিক শহিদ হয়েছেন। তবে আমরা লড়াই ছাড়িনি, প্রাণ দিয়ে লড়েছি।’
বর্তমানে ভারতীয় পূর্ব সৈনিক সেবা পরিষদের হুগলি জেলার প্রেসিডেন্ট মনোজ। কার্গিল বিজয় দিবস উপলক্ষে রবিবার রিষড়া পুরসভার কাছে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে এনসিসি-র আধিকারিক ও ক্যাডেট, সেনাবাহিনীর প্রাক্তন সদস্য, রিষড়া ও শ্রীরামপুর থানার আধিকারিক এবং বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশ নেবেন। দেশাত্মবোধক গান, নৃত্য এবং শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে কার্গিলের বীর সেনানীদের আত্মত্যাগকে স্মরণ করা হবে।