পদ নয়, বিজেপির কাছে শিক্ষার্থীরাই গুরুত্বপূর্ণ, ধর্মেন্দ্রর ইস্তফার পর বড় বার্তা শাহের
প্রতিদিন | ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রবল ছাত্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অবশেষে ইস্তফা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। শনিবার তাঁর ইস্তফায় যন্তর মন্তরে উৎসবে মেতেছেন পড়ুয়ারা। গেরুয়া শিবিরও পাশে দাঁড়িয়েছে ধর্মেন্দ্রর। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি জানান, পদ নয়, বিজেপির কাছে শিক্ষার্থীরাই গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্টে শাহ বলেন, “বিজেপি কর্মীদের কাছে যেকোনও পদের চেয়ে দেশ, যুবসমাজ এবং শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ সেই নীতিকেই তুলে ধরে।” তাঁর কথায়, “নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার দেশের তরুণদের উদ্বেগের বিষয়গুলিকে গুরুত্ব দেয়। পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে কঠোর সংস্কার প্রবর্তনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় দোষীদের কঠোর শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়।” শাহের বক্তব্য, তিনি নিশ্চিত – সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলি নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।
শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে ধর্মেন্দ্রর কার্যকালের উপর আলোকপাত করে শাহ তাঁকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নের কৃতিত্বও দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর করা, আঞ্চলিক ভাষায় পরীক্ষা গ্রহণের পরিধি বৃদ্ধি, ‘পিএম শ্রী’ স্কুলগুলিকে শক্তিশালী করা, ডিজিটাল শিক্ষার প্রসার, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার উন্নতি ঘটানো ইত্যাদি। পরীক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলার ক্ষেত্রে ধর্মেন্দ্রর প্রচেষ্টারও তিনি প্রশংসা করেন। শাহ বলেন, “তাঁর কার্যকাল ভারতকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার সংকল্পের প্রতি নিষ্ঠারই প্রমাণ।”
উল্লেখ্য, ব্যাপক বিতর্কের জেরে শনিবার সকালে ধর্মেন্দ্র প্রধান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠান। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘দেশের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ, উন্নত ও দুর্নীতিমুক্ত শিক্ষাব্যবস্থাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি নিজের দায়িত্ব থেকে কোনও সময় মুখ ফিরিয়ে নিইনি। প্রথম দিন থেকে নিটে প্রশ্নফাঁসের দায় নিয়েছি, কোনওসময় মুখ লুকোয়নি।’ তাঁর দাবি, ছাত্র আন্দোলনের নামে কিছু দেশ-বিরোধী কুচক্রী ষড়যন্ত্র করছে। সেই কুচক্রীরা যাতে কোনওভাবেই পরিস্থিতির সুবিধা তুলতে না পারে, সেজন্যই আমার ইস্তফা। আমার এই পদত্যাগপত্র দেশের জন্য।’