• প্রতিদিন গঙ্গায় মৃত্যু চারজনের! ৬০ ফুট জলের তলায় ডিউটির অভিজ্ঞতা শোনালেন ডুবুরিরা
    প্রতিদিন | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • প্রতিদিন চার মৃতদেহ ভেসে ওঠে কলকাতা ও শহরতলির গঙ্গায়। তাঁদের বাঁচাতে জীবন বাজি রাখেন যাঁরা, তারাই হাজির হয়েছিলেন বিশ্ব জলে ডোবা প্রতিরোধ দিবসে। চেতলা অহীন্দ্র মঞ্চে উপস্থিত বাবলু রায়, অনুপকুমার বেরা, তন্ময় বিশ্বাস, মহম্মদ ইসমাইলরা অধিকাংশ দিন ডিউটি করেন ৬০ ফুট জলের তলায়! তাঁরা কলকাতা রিভার ট্রাফিক গার্ডের ডুবুরি।

    কলকাতার রিভার ট্রাফিক গার্ডে এমন ৪৩ জন ডুবুরি রয়েছেন। চারজনকে সম্মানিত করা হল বিশ্ব জলে ডোবা প্রতিরোধ দিবসে। কলকাতা রিভার ট্রাফিক গার্ডের সাব-ইন্সপেক্টর দেবাশিস বৈদ্য জানিয়েছেন, কলকাতা রিভার ট্রাফিক গার্ডের ক্ষেত্রের মধ্যে গড়ে ফি দিন চার দেহ ভেসে ওঠে। কতটা সে এলাকা? কোন্নগর থেকে বজবজ, এটাই কলকাতা রিভার ট্রাফিক গার্ডের তল্লাট। তারপর? “দেহ ভেসে উঠলে স্থানীয় থানায় হস্তান্তরিত করা হয়। কখনও উত্তর বন্দর থানা বিষয়টি দেখে। কখনও দেখে ওয়েস্ট পোর্ট অথবা সাউথ পোর্ট থানা।”

    শহর কলকাতার গঙ্গায় ফি দিন চার মৃত্যু দ্বিগুণ হতে পারে পুজোর মরশুমে। কিন্তু তা যে হয় না তার কৃতিত্ব কলকাতা পুলিশের। পাহারা এতটাই কড়া থাকে। ডুবুরিরা জানিয়েছেন, ছট পুজো অথবা দুর্গাপুজোয় প্রচুর মানুষ মদ্যপ অবস্থায় ঘাটে আসেন। টাল সামলাতে না পেরে
    তলিয়ে যেতে থাকেন। জীবন বাজি রেখে তাদের উদ্ধার করা হয়।

    অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে রিভার ট্রাফিক গার্ডের সাব-ইন্সপেক্টর দেবাশিস বৈদ্য জানিয়েছেন, “গঙ্গাটা পুকুর নয়। সুইমিং পুলও নয়। সাঁতার না জেনে গঙ্গায় নামা অত্যন্ত বিপদ।” অভিভাবকদের প্রতি পুলিশের অনুরোধ, কোলের শিশুদের সাবধানে রাখুন। শুক্রবার গঙ্গায় মৃত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে এক সদ্যোজাতকে। গঙ্গায় কেউ ডুবে গেলে প্রথম চ্যালেঞ্জ থাকে কত দ্রুত তাঁর কাছে পৌঁছনো যায়। জেট স্কি নিয়ে সেই কাজটা করেন হাবিবুল্লা। শনিবার বিশ্ব জলে ডোবা প্রতিরোধ দিবসে হাজির ছিলেন চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউটের চিফ এক্সিকিউটিফ অফিসার ডা. ইন্দ্রাণী ভট্টাচার্য। অনলাইনে বক্তব্য রাখেন সিনির অধিকর্তা ডা. সমীর চৌধুরি। ছিলেন মৈপীঠের পঞ্চায়েত প্রধান জ্যোৎস্না হালদার।
  • Link to this news (প্রতিদিন)