• গোপন থিমে তোলপাড় ফেলল এগরার 'এই' ক্লাব! কী চমক থাকছে? আগেই জেনে নিন
    News18 বাংলা | ২৬ জুলাই ২০২৬
  • রথযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। প্রবাদ আছে রথ টানলেই আসে শারদ উৎসব বা দুর্গাপুজো। বাঙালির বড় উৎসব আর খুব একটা বেশি বাকি নেই। এখন থেকেই দুর্গা পুজো কমিটিগুলি পুজোর প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। জোর কদমে শুরু হয়েছে মণ্ডপ বাঁধার কাজ। পিছিয়ে নেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন দুর্গাপুজো কমিটিগুলি। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার একটি পুজো কমিটি এবার তাদের শারদ উৎসবে সূচনা করল প্রান্তিক কৃষকদের সম্মান জানিয়ে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কৃষি প্রধান জেলা। এই জেলায় একেবারে ভিন্ন আঙ্গিকে দুর্গাপুজোর আয়োজন করে তাক লাগানোর চেষ্টায় এই পুজো কমিটি।

    এগরার বাসুদেবপুর ব্লু বার্ড ক্লাবের এবারের দুর্গাপুজোর থিম ‘গ্রাম বাংলার প্রান্তিক কৃষক’ কৃষকের জীবনসংগ্রাম, পরিশ্রম ও সমাজ গঠনে তাঁদের অবদানকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরার উদ্যোগ! বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু হয়ে গিয়েছে পুজোর প্রস্তুতি। সেই আবহেই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার এগরার বাসুদেবপুর ব্লু বার্ড ক্লাবের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল ঐতিহ্যবাহী খুঁটি পুজো। পুজোর শুভ সূচনাকে ঘিরে সকাল থেকেই ক্লাব প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আবহ। সকলের প্রার্থনা ছিল, মা দুর্গার আশীর্বাদে সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন হোক এবারের দুর্গোৎসব।

    তবে শুধু আড়ম্বরপূর্ণ পুজো নয়, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার বার্তা তুলে ধরতেই প্রতি বছরের মতো এবারও এক ব্যতিক্রমী ভাবনা নিয়ে এগোচ্ছে বাসুদেবপুর ব্লু বার্ড ক্লাব। ক্লাব সূত্রে জানা গিয়েছে, এবারের মণ্ডপসজ্জা, আলোকসজ্জা এবং শিল্পকর্মে ফুটে উঠবে গ্রাম বাংলার প্রকৃত ছবি। ধানক্ষেত, কৃষকের কুঁড়েঘর, লাঙল, গরুর গাড়ি, বীজ বোনা, চাষের কাজ, ফসল কাটার দৃশ্য, গোলাভরা ধান, কৃষকের পরিবারের জীবনযাপন, সবকিছুই বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দর্শনার্থীরা যেন শুধু একটি মণ্ডপ না দেখে, বরং বাংলার কৃষিজীবনের বাস্তব চিত্র অনুভব করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছেন শিল্পীরা।

    ক্লাবের সদস্যদের কথায়, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই বার্তাকেই সামনে রেখে এবারের থিম পরিকল্পনা করা হয়েছে। কৃষকের ঘামেই মাঠে সোনালি ফসল ফলে, সেই ফসলই পৌঁছে যায় শহর থেকে গ্রাম, প্রতিটি মানুষের ঘরে। অথচ যাঁদের পরিশ্রমে দেশের খাদ্যভাণ্ডার ভরে ওঠে, সেই কৃষকরাই বহু সময় আর্থিক অনটন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ঋণের বোঝা এবং নানান প্রতিকূল পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করে জীবন কাটান। তাঁদের এই নীরব সংগ্রামের কাহিনি সমাজের সামনে তুলে ধরাই এবারের পুজোর অন্যতম উদ্দেশ্য।” ২০২৬ সালের দুর্গাপুজোর মূল থিম ‘গ্রাম বাংলার প্রান্তিক কৃষক।’ এই থিমের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের জীবনসংগ্রাম, অক্লান্ত পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের অমূল্য অবদানকে শিল্পের মাধ্যমে তুলে ধরা হবে।
  • Link to this news (News18 বাংলা)