আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের নওদার 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের রাজনৈতিক জীবনে সমস্যা কমার কোনও লক্ষণ নেই। রাজনীতির জনসভা থেকে উস্কানিমূলক মন্তব্যের অভিযোগে সম্প্রতি 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে রেজিনগর ও শক্তিপুর থানায় দু'টি 'সুয়ো মোটো' মামলা দায়ের হয়েছে।
দু'টি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই হুমায়ুন কবীরকে রেজিনগর থানায় দু'বার এবং শক্তিপুর থানায় একবার হাজিরাও দিতে হয়েছে। তিন দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তদন্তকারী আধিকারিকদের কড়া জেরার মুখে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর।
গত ৮ মে শক্তিপুরের গড়দুয়ারা এলাকায় একটি রাজনৈতিক জনসভা থেকে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসকে 'কুরুচিকর' ভাষায় আক্রমণ করার অভিযোগ ওঠে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র বিধায়ক হুমায়ুন কবীর এবং শক্তিপুর থানা এলাকায় তাঁর দলের আহ্বায়ক আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে।
সেই মামলাই ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার হয়েছেন আনিসুর। বর্তমানে তিনি জেল হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে রেজিনগরের কাশিপুর এলাকায় যে জনসভা থেকে হুমায়ুন কবীর 'উস্কানিমূলক' বক্তব্য দিয়েছিলেন সেই সভার দুই উদ্যোক্তাও পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে রয়েছেন।
এবার নতুন করে শক্তিপুর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন হুমায়ুনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং তাঁর দলের মুর্শিদাবাদ জেলা সহ সভাপতি সেলিম শেখ ওরফে সাহেবজান। মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানার অন্তর্গত নবগ্রাম এলাকার বাসিন্দা সেলিম শেখকে শনিবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে শক্তিপুর থানার পুলিশ।
ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিশের তরফ থেকে দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়া, দু'টি ভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে শত্রুতা তৈরি করা, জাতীয় সংহতি নষ্টের চেষ্টা, সরকারি কর্মচারীকে আঘাত এবং কর্তব্যে বাধা দানের চেষ্টা, মানহানি, উত্তেজনামূলক ভাষণ, অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। ধৃত সাহেবজানের ৮ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন করে রবিবার তাকে বহরমপুর আদালতে পেশ করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে হরিহরপাড়া ব্লক সভাপতি মনোনয়নকে কেন্দ্র করে হুমায়ুনের সঙ্গে 'মতান্তরে' জেরে 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতির পদ ছেড়েছিলেন বিজয় শেখ। হুমায়ুন কবীর রেজিনগর বিধানসভা আসন থেকে পদত্যাগ করায় আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সেখানে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। ওই আসনে প্রার্থী হিসেবে হুমায়ুন ইতিমধ্যে তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদের নাম ঘোষণা করে দিয়েছেন। সূত্রের খবর, রেজিনগর উপনির্বাচনের জন্য দলের সহ সভাপতি সাহেবজানকে 'বিশেষ দায়িত্ব' দিয়েছিলেন 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়দুয়ারা এলাকায় যে সভা থেকে হুমায়ুন কবীর শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের বিরুদ্ধে 'কুরুচিকর' মন্তব্য এবং উস্কানিমূলক ভাষণ করেছিলেন সেই সভার অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন সেলিম খান ওরফে সাহেবজান।
হুমায়ুন পুত্র গোলাম নবী আজাদ বলেন, "সাহেবজান আমাদের দলের জেলা সহ সভাপতি পদে আসীন রয়েছেন। রেজিনগর এবং শক্তিপুর থানা এলাকায় যে দু'টি সভা নিয়ে বিতর্কে সূত্রপাত সেই সভা দু'টির তিন আয়োজককে গ্রেপ্তার করে রেখেছে পুলিশ। তারা এখনও জামিন পায়নি। দলের কর্মীদেরকে পুলিশের তরফ থেকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। তবে আমরা দলের কর্মীদের পাশের সর্বতোভাবে রয়েছি এবং তাঁদেরকে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।"