ভূতের ভয় দেখাতে এলাকার বাড়িগুলিতে রাতের অন্ধকারে ঢিল ছোড়া হত! কে বা কারা এই কাজ করত? স্থানীয়রা আন্দাজ করতে পারত না। গতকাল, শনিবার রাতে অভিযুক্ত ওই যুবক ধরা পরে যায় স্থানীয় এক যুবকের হাতে। ওই ঘটনায় রাতে ঝামেলা হলেও পরে থেমে যায়। আজ, রবিবার সকালে ফের ঝামেলা হলে ধারালো ছুরি দিয়ে কোপ! অভিযুক্তের হাতে খুন হল যুবক! আরও দু’জন ছুরির কোপে গুরুতর জখম। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে, হাওড়ার বাঁকড়া এলাকায়। মৃতের নাম হাসান মীর।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাড়িতে ঢিল ছোঁড়ার প্রতিবাদ করায় তিন ব্যক্তিকে ছুরি দিয়ে কোপানো হল! মৃত্যু হল একজনের। বাকি দু’জন গুরুতর জখম অবস্থায় হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রবিবার সকালে ঘটনাটি ঘটে বাঁকড়ার রসিকল এলাকার পেয়াদাপাড়ায়। খবর পেয়েই বাঁকড়া ফাঁড়ি থেকে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্ত যুবক গুড্ডু শেখকে। ছুরির ঘায়ে মৃত্যু হয় বাঁকড়ার রসিকল পেয়াদা পাড়ার বাসিন্দা হাসান মীরের। গুরুতর আহত হন হাসান মীরের দুই ভাই নজরু ইসলাম মীর ও নাজিমূল ইসলাম মীরের।
মৃতের পরিবারের তরফে জানানো হয়েছে, শনিবার রাতে হাসান মীর ছাড়াও আশপাশের বাসিন্দাদের বাড়িতে অন্যান্যদিনের মতো ঢিল ছোঁড়ে গুড্ডু। রাতে এলাকার একাধিক বাড়িতে ওই যুবক ঢিল ছোড়ার সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে স্থানীয় বাসিন্দারা। এই ব্যাপারে তাঁকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। আর এই নিয়েই স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তাঁর বচসা এবং গালিগালাজ শুরু হয়ে যায়। গুড্ডু তখন স্থানীয় বাসিন্দাদের ছুরি মারার হুমকি দিয়ে তখনকার মতো চলে যায়। এরপর শনিবার সকালে গুড্ডু পাড়ায় ছুরি নিয়ে বেরিয়ে আচমকাই হাসান মীরকে পেটে ছুরি মেরে দেয়। তাঁকে বাঁচাতে তাঁর দুই ভাই নজরু ইসলাম মীর ও নাজিমূল ইসলাম মীর গেলে তাঁদের উপরও ছুরি চালিয়ে দেয় গুড্ডু।
রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক হাসানকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অভিযোগ, ভূতের ভয় দেখাতে রাত বাড়লেই বাড়ি বাড়ি ঢিল ছোড়ার অভ্যাস ধৃত গুড্ডুর। গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করার পাশাপাশি রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে চাপা উত্তেজনা থাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী ও র্যাফ।