কারগিল যুদ্ধের স্মৃতি আগলে বিজয় দিবসেও সেদিনের ঘটনা জীবন্ত প্রাক্তন জওয়ানের চোখে
News18 বাংলা | ২৬ জুলাই ২০২৬
৬০ দিনের রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের শেষে পাকিস্তানকে পরাস্ত করে আজকের দিনেই ১৯৯৯ সালে তেরঙ্গা উড়িয়েছিল ভারত। ২৬ জুলাই তাই কারগিল বিজয় দিবস হিসাবেই পালন করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের কারগিল সেক্টরের একাধিক পাহাড়চূড়ায় পাকিস্তানি সেনা ও জঙ্গিরা গোপনে অনুপ্রবেশ করেছিল সেদিন। তারপরই শুরু হয় ভারতীয় সেনাবাহিনীর অন্যতম কঠিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন বিজয়’। সেই যুদ্ধে দেশের জন্য আত্মবলিদান দেন ভারতীয় সেনাবাহিনীর ৫২৭ জন বীর সেনা। আহত হন এক হাজারেরও বেশি জওয়ান। তাঁদের আত্মত্যাগ ও বীরত্বের ফলেই ২৬ জুলাই ভারত সম্পূর্ণভাবে কারগিল সেক্টর পুনরায় দখল করে বিজয় অর্জন করে।
কারগিল যুদ্ধের সেই স্মৃতি যেন আজও তাড়া করে বেড়ায় বনগাঁর বীর সেনা কিংশুক পালকে। ২৭ বছর পরও সেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের স্মৃতি আজও স্পষ্ট এই ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রাক্তন আর্টিলারি রেজিমেন্টের ১৩ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান কিংশুক পালের মনে। উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর বাসিন্দা এই বীর সেনা কারগিল যুদ্ধের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি জানান, কারগিল যুদ্ধের সময় তিনি বাটালিক সেক্টরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ঘাতক ফোর্সের সঙ্গে কর্মরত ছিলেন। যুদ্ধের সময় বফর্স কামান পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন তিনি ও তার সঙ্গীরা। কিংশুক পালের কথায়, পাকিস্তানি সেনারা পাহাড়ের উঁচু অংশে শক্ত ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। ফলে নিচু অবস্থান থেকে তাদের লক্ষ্য করে যুদ্ধ চালানো অত্যন্ত কঠিন ছিল। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে শত্রুপক্ষ বাড়তি সুবিধা পেলেও ভারতীয় সেনারা সাহস ও কৌশলের সঙ্গে পাল্টা জবাব দিয়েছিলেন। তিনি জানান, তাদের ইউনিটের মূল দায়িত্ব ছিল বফর্স কামানের গোলাবর্ষণের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের বাঙ্কার ও অবস্থান ধ্বংস করে সেনাদের এগিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করা। প্রথম দফার গোলাবর্ষণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পদাতিক বাহিনীকে সামনে এগোনোর অনুমতি দেওয়া হতো না। যুদ্ধের বিভিন্ন ধাপে দিন-রাত একটানা গোলাবর্ষণ চালিয়ে যেতে হতো। সেই সময় বিশ্রামের কোনো সুযোগ ছিল না।
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কিংশুক পাল জানান, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের চোখের সামনে বহু সহযোদ্ধাকে হারিয়েছেন তিনি। সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তগুলো আজও তাঁর মনে দগদগে ক্ষতের মতো রয়ে গিয়েছে। কথাগুলি বলতে গিয়েও বারবার আবেগে গলা ভারী হয়ে আসছিল তাঁর। তবে যুদ্ধের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা থেকে আজ তিনি শান্তির পক্ষেই সওয়াল করেন। তবুও দেশের প্রয়োজনে, ভারত মাতার সুরক্ষায়, বয়স কোনো বাধা নয়, প্রয়োজন হলে আবারও দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে লড়াই করতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন এই বীর সেনা। তাঁদের মত এই বীর সৈনিকদের আত্মত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে যেন বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।