‘স্কুল পড়ুয়াদের জন্য বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স’, বড় ঘোষণা স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুলাই ২০২৬
রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে পড়ুয়ারা আসছে কি? এই প্রশ্ন এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমছে বলে অভিযোগ উঠছে নানা মহল থেকে। কোন স্কুলে পড়ুয়া নেই, কোথাও আবার পড়ুয়া আছে তো পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নেই। সরকারি স্কুলে বেহাল অবস্থা নিয়ে নানা অভিযোগ আসতে শুরু করেছে। এবার এই সমস্ত অভিযোগের নিরসন করতে স্কুলশিক্ষার আমুল পরিবর্তন করার পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়াতে নয়া সিদ্ধান্তের কথা জানালেন স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ।
সরকারি স্কুলের হাল ফেরাতে এবং স্কুলশিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক পরিবর্তন করতে একাধিক পরিকল্পনা শুরু করেছে রাজ্য সরকার। রবিবার সেই ইঙ্গিত মিলল রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণের কথায়। স্কুলের পড়ুয়াদের উপস্থিতি বাড়াতে নয়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। এদিন ‘অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘে’র ১১তম জেলা সম্মেলন উপলক্ষ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের স্কুলশিক্ষা মন্ত্রী দীপক বর্মণ। সেখানেই দীপক বর্মণ বলেছেন, ‘স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য এবার বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা করা হবে। তার ফলে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের চাপ কমবে। আর প্রথম থেকে সকল পড়ুয়াকে বলে দেওয়া হবে কম উপস্থিতি হলে পরীক্ষায় বসতে দেওয়া হবে না।’
সব স্কুলে উপযুক্ত সময়ে নিয়োগ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী। রাজ্যের একহাজার স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব তৈরি হবে। তার জন্য স্কুল পিছু ২০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হচ্ছে। প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ন্যূনতম ৩ জন শিক্ষক রাখা হবে। একইসঙ্গে আপার প্রাইমারি স্কুলগুলিকে হাইস্কুলের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া যায় কিনা সেটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে রাজ্য সরকার বলে জানান তিনি। স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর কথায়, ‘স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য এবার বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স, রাজ্যের হাজার স্কুলে অত্যাধুনিক ল্যাব, স্কুল পিছু ২০ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ, প্রাথমিক স্কুলগুলিতে ন্যূনতম ৩ জন শিক্ষক রাখা এবং আপার প্রাইমারি স্কুলগুলিকে হাইস্কুলের সঙ্গে যুক্ত করার কথা ভাবা হচ্ছে।’
রবিবার জলপাইগুড়িতে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের জেলা সম্মেলনে স্কুলশিক্ষা মন্ত্রীর দাবি, ‘স্কুলে পঠনপাঠন বজায় রাখার পাশাপাশি জনগণনার কাজ করতে বিশেষ ভাবনা রয়েছে। এই দুই প্রক্রিয়াকে একইসঙ্গে চালিয়ে নিয়ে যেতে প্রয়োজনে সরকারি বিদ্যালয়গুলিতে সকালে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করা হতে পারে। তার জন্য নির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরি করে দেওয়া হবে।’