উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএস আসন বেড়ে ২৫০, পরিকাঠামোয় বিশেষ জোরের দাবি
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৭ জুলাই ২০২৬
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ডাক্তারি পঠনপাঠনের ক্ষেত্রে এল খুশির খবর। চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই এখানে এমবিবিএস আসনের সংখ্যা বেড়ে ২৫০ হতে চলেছে। এবার জাতীয় স্বাস্থ্য শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন (এনএমসি) এই মর্মে চূড়ান্ত ছাড়পত্র প্রদান করেছে। এনএমসি-র অনুমোদন নিয়ে চিঠি মেডিকেলে পৌঁছে যাওয়ার পর থেকেই উচ্ছ্বাসের হাওয়া গোটা ক্যাম্পাসে। রাজ্যে পালাবদল হতেই উত্তরবঙ্গকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেটা যে হবে তা আগেই জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সুতরাং কথা অনুযায়ী কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গে। যার সুফল দেখা যাচ্ছে এখানে।
উত্তরবঙ্গ বহু বছর ধরেই অবহেলিত। সেখানে উন্নয়ন ঘটানোই প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য রাজ্য সরকারের। দীর্ঘদিন ধরেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালে আসন বাড়ানোর উদ্যোগ চলছিল। এখন এখানে এমবিবিএস-এর ২০০টি আসন রয়েছে। আসন সংখ্যা আরও বাড়ানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে স্বাস্থ্য দপ্তরের কাছে টানা দাবি জানানো হচ্ছিল। অবশেষে স্বাস্থ্য দপ্তরের সেই সুপারিশ এবং এনএমসি-র পরিদর্শনের পর এই নতুন ২৫০টি আসনের অনুমোদন মিলল। তার ফলে চলতি শিক্ষাবর্ষেই অতিরিক্ত ৫০ জন ডাক্তারি পড়ুয়া ভর্তি হতে পারবেন। যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এই আসন সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়া নিয়ে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ‘ডিন অফ স্টুডেন্টস অ্যাফেয়ার্স’ ডাঃ অনুপম নাথগুপ্ত আনন্দ প্রকাশ করে জানান, ‘নিটের ফলাফল ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। আগামী আগস্ট মাসেই সম্ভবত এমবিবিএস-এ ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হবে। এনএমসি-র অনুমোদনের চিঠি কলেজে এসে পৌঁছেছে। এটি অত্যন্ত আনন্দের খবর। আমরা এবার এমবিবিএস-এ বেশি সংখ্যক পড়ুয়াকে ভর্তি নিতে পারব। মাত্র ৫০টি আসন দিয়ে শুরু করে আজ আমাদের কলেজ ২৫০টি আসনে পৌঁছেছে। যা এক বিরাট প্রাপ্তি।’
আসন বৃদ্ধির খবরে কলেজের শিক্ষক-চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা আনন্দিত হলেও আর একটি বিষয় নিয়ে চিন্তা দেখা গিয়েছে। এই বিষয়ে হাসপাতালের প্রবীণ চিকিৎসক এবং পড়ুয়াদের বড় অংশের মতে, শুধুমাত্র ভর্তি নিলেই তো হবে না। সঠিক পঠনপাঠন ও গুণগত শিক্ষা সুনিশ্চিত করাও জরুরি। মেডিক্যালের চিকিৎসা ও পঠনপাঠনের এখন পরিস্থিতি নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত ক্লাসের অভাব ও ফাঁকিবাজির অভিযোগ উঠছে যে, শিক্ষক-চিকিৎসকদের একাংশ নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছেন না। তাঁরা অনিয়মিতভাবে সপ্তাহে দু-একদিন আসেন মাত্র।
ডাক্তারি পড়ুয়াদের অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রায় ৯০ শতাংশ অধ্যাপক-চিকিৎসক নিয়মিত ক্লাস করাচ্ছেন না। কেউ কেউ হয়তো তিন মাসে একদিন এসে শুধু একটি ক্লাস করিয়ে চলে যান। হাতে গোনা কয়েকজন চিকিৎসক নিয়মিত দায়িত্ব নিয়ে পড়ান। থিওরি ক্লাসের পাশাপাশি প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসও ঠিকমতো হয় না। যার জেরে বাধ্য হয়ে প্রায় সমস্ত ডাক্তারি পড়ুয়াকেই অনলাইনে নানা পেইড অ্যাপের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে পড়াশোনা করতে হচ্ছে। ক্যাম্পাসে রোগী চিকিৎসা এবং শিক্ষাদানে নিযুক্ত এক অধ্যাপক-চিকিৎসক জানিয়েছেন, ‘স্বাস্থ্য দপ্তরকে এই বিষয়ে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে। প্রত্যেকটি অধ্যাপক-চিকিৎসকের নিয়মিত হাজিরা বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। সঠিক পঠনপাঠন না হলে ভাল চিকিৎসক তৈরি হবে না। অধ্যাপক-চিকিৎসকরা ক্লাসে না এলে শুধু ডাক্তারি পড়ুয়াদের ক্ষতিই হয় না, পরবর্তীতে অনিয়মিত ক্লাসের এই বিষয়টি এনএমসি-র নজরে এলে কলেজের এই বর্ধিত আসন বা অনুমোদন সরাসরি বাতিল হয়ে যেতে পারে।’