গঙ্গাবক্ষে নৌকার উপর মদ-মাংসের আসর বসানো। ভিডিও ভাইরাল হতে পাঁচ পড়ুয়াকে গ্রেপ্তার করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুঁইয়া। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গঙ্গাবক্ষে মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করে এমন কোনও আইন নেই। তবে আদালত কক্ষে নয়, একটি সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। তাঁর কথায়, যে অপরাধে গ্রেপ্তার করা হয়েছে সেটা আসলে কোনও অপরাধই নয়।
ঘটনার সূত্রপাত মাসতিনেক আগে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাঝগঙ্গায় বসে চিকেন বিরিয়ানি খাওয়ার অপরাধে বারণসীতে গ্রেপ্তার ১৫ জন! নৌকোয় বসে ইফতার পার্টি করছিলেন তাঁরা। অভিযোগ, বিরিয়ানি খাওয়ার পর নদীতে উচ্ছিষ্ট হাড়গোর ফেলা হয়। এই ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামে বিজেপির যুব মোর্চা। তারা সনাতন ধর্মকে অপমান তথা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ আনে। বারাণসীর কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি যুব মোর্চার নেতা রজত জয়সওয়াল। তিনি অভিযোগ করেন, গঙ্গায় নৌকোর মধ্যে ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল।
রজত বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে গঙ্গা গভীর ও অটল বিশ্বাসের প্রতীক। দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাজার হাজার ভক্ত প্রতিদিন গঙ্গার জল ব্যবহার করে পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনা জানাতে কাশীতে আসেন। সেই নদীর মাঝখানে নৌকায় বসে বিরিয়ানি খাওয়া এবং উচ্ছিষ্ট জলে ফেলা সম্পূর্ণ অনুচিত কাজ।” তিনি দাবি করেন, “হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার উদ্দেশ্যেই এক কাজ করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
এই বিষয়টি নিয়েই একটি সম্মেলনে মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। ভোপালের ন্যাশনাল ল ইনস্টিটিউট ইউনিভার্সিটিতে জাস্টিস জিপি সিং স্মারক বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “চিকেন বিরিয়ানি খাওয়াটা কোনও অপরাধ নয় এটুকু আমি বলতে পারি। গঙ্গাবক্ষে বসে মুরগির মাংস খাওয়া যাবে না এমন কোনও আইন নেই। কিন্তু এই কারণেই তাদের গ্রেপ্তার করা হল এবং জেলে পাঠানো হল। এইভাবে কি কাউকে গ্রেপ্তার করে দিনের পর দিন জামিন ছাড়া কাটিয়ে দেওয়া যায়? মানুষ সবই দেখছেন।”