• বিজেপি সাংসদের বাড়িতে নদিয়ার ‘সোনায় মোড়া’ টিনা! ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার রাস্তা পরিষ্কার?
    প্রতিদিন | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার ‘ভালো তৃণমূল’ হওয়ার রাস্তা খুঁজছেন নদিয়া জেলা পরিষদের সভাপতি তথা সব্যসাচী দত্ত ঘনিষ্ঠ টিনা ভৌমিক সাহা? রবিবার রানাঘাটের বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের বাড়িতে তাঁর উপস্থিতির ছবি ঘিরে নানারকম চর্চা শুরু হয়েছে নদিয়ার রাজনৈতিক মহলে। সম্প্রতি সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওই ছবিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যদিও এই সাক্ষাৎকারকে নিছক ‘সৌজন্য’ বলেই দাবি করেছেন জগন্নাথ সরকার ও টিনা ভৌমিক সাহা। তবে গুঞ্জন থামছে না।

    সম্প্রতি টিনা ভৌমিক সাহার বাড়ি থেকে তাল তাল সোনা উদ্ধারের ঘটনায় শিরোনামে চলে আসেন জেলা পরিষদের সদস্য। সল্টলেকের ধৃত তৃণমূল নেতা সব্যসাচী দত্তকে সঙ্গে নিয়েই ইডি তাঁর বাড়িতে তল্লাশি করতে যান। টিনা তাঁর ‘বান্ধবী’ বলেও গুনগুন-ফিসফাস শুরু হয়। তাতে অবশ্য টিনা সংবাদমাধ্যমকেই দুষেছিলেন। সেই সোনা উদ্ধারের ঘটনা নিয়ে সাংসদ জগন্নাথ সরকারকে প্রশ্ন করা হলে তাঁর জবাব, আইন তার নিজস্ব গতিতেই চলবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র থাকলে সোনা ফেরত পাওয়া যাবে, আর হিসাব মেলাতে না পারলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    বিজেপি সাংসদের বাড়িতে যাওয়া নিয়ে যাবতীয় রাজনৈতিক জল্পনা উড়িয়ে টিনা ভৌমিক সাহা জানান, সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাঁর কথায়, ‘‘একজন জনপ্রতিনিধির বাড়িতে যে কেউ যেতে পারেন। জনপ্রতিনিধি সকলের জন্যই উন্মুক্ত। আমরা একই জেলার প্রশাসনিক পরিকাঠামোর মধ্যে কাজ করি।” আসন্ন জেলা পরিষদের ভোটাভুটির সঙ্গে এই সাক্ষাতের কোনও সম্পর্ক নেই বলেও স্পষ্ট দাবি করেন তিনি। সোশাল মিডিয়ায় ‘দাদা, থ্যাঙ্ক ইউ’ লেখা পোস্ট প্রসঙ্গে টিনা বলেন, ‘‘কাকে আমি দাদা বলব বা ধন্যবাদ জানাব, সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বিষয়।” পাশাপাশি জেলা পরিষদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে তিনি বলেন, সময় এলেই সবকিছু জানানো হবে।

    ভাইরাল ছবি প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাড়ির দরজা সব দলের মানুষের জন্যই খোলা। তিনি বলেন, “তিনি কোনো গোপনে বা চুরি করে আসেননি। দিনের আলোতেই সকলের সামনে এসেছেন। এতে জল্পনা ছড়ানোর মতো কিছু নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কিছু মানুষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।” একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর বাড়ির দরজা সব দলের মানুষের জন্যই খোলা। তিনি বলেন, “তিনি কোনো গোপনে বা চুরি করে আসেননি। দিনের আলোতেই সকলের সামনে এসেছেন। এতে জল্পনা ছড়ানোর মতো কিছু নেই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কিছু মানুষ বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই সাক্ষাৎ আগামী দিনের জেলা রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত কি না, তা সময়ই বলবে।
  • Link to this news (প্রতিদিন)