• ‘ছাত্রছাত্রীদের উপরে হামলার...’, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পরে অমিত শাহের ইস্তফা দাবি বিরোধীদের, উত্তাল হবে সংসদ
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা দিয়েছেন। বড় জয় পেয়েছে ‘ককরোচরা’। ছাত্র আন্দোলনের এই সাফল্যে ভর দিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে নতুন করে কোমর বাঁধছে বিরোধীরা। সোমবার বাদল অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলতে চলেছেন তাঁরা। রবিবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এমনটাই জানালেন সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস।

    NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে দিল্লিতে সংসদ অভিযানের সময়ে আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ উঠেছিল। শুধু তাই নয়, কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো হয় বলেও অভিযোগ। পড়ুয়াদের উপরে পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদেই অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলছেন বিরোধীরা। জন ব্রিটাস বলেন, ‘শনিবার অমিত শাহ বলেছিলেন, সরকার আন্দোলনকারী যুবকদের সম্মান করে। কিন্তু গত ৩৬ দিন সেই সম্মান কোথায় ছিল?’

    ছাত্রছাত্রীদের উপরে পুলিশি পদক্ষেপের সমস্ত দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘাড়েই চাপিয়েছেন তিনি। ব্রিটাসের কথায়, ‘দিল্লির রাস্তায় ছাত্রছাত্রীদের মারধর করা হয়েছে, তাঁদের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এর পরেই তাঁর দাবি, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানের মতো অমিত শাহকেও পদত্যাগ করতে হবে। নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের উপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।’

    প্রশ্নফাঁস আটকাতে কড়া আইন আনার কথা ভাবছে কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার তা নিয়ে সংসদে আলোচনা হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রের পাশে দাঁড়ালেও ব্রিটাসের দাবি, ‘সমস্যা আইনে নয়। রাজনৈতিক সদিচ্ছায়। প্রশ্নফাঁস রোধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ করেনি।’ তিনি মনে করিয়ে দেন, ২০২৪-এই সরকার Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act পাশ করেছিল, দাবি ছিল এতে প্রশ্নফাঁস বন্ধ হবে। কিন্তু এখন সেই আইনেই সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্রিটাসের দাবি, ‘বর্তমান আইন সঠিক ভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে সরকার।’

    ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি পদক্ষেপের নিন্দা করে সংসদে আলোচনার দাবি তুলতে চলেছে ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের দলগুলি। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ইতিমধ্যেই অমিত শাহকে চিঠি লিখে ঘটনার দায় কার, সেই প্রশ্ন তুলেছেন। তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষও এই নিয়ে আলোচনার দাবি জানিয়েছেন। বিরোধীদের অভিযোগ, ২০ জুলাইয়ের ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে পেলেট গান ব্যবহার, সাদা পোশাকের নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং ছাত্রছাত্রীদের উপর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। যদিও দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সিআরপিএফের র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) এ বিষয়ে এখনও প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।

    উল্লেখ্য, সোমবার লোকসভায় Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 পেশ করতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।

    ১. কেন অমিত শাহের পদত্যাগের দাবি তুলছে বিরোধীরা?

    ছাত্র আন্দোলনের সময় দিল্লিতে পুলিশি লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের অভিযোগ তুলে তার রাজনৈতিক দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপর চাপাচ্ছে বিরোধীরা।

    ২. এই দাবি কে জানিয়েছেন?

    সিপিএমের রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিটাস জানিয়েছেন যে, সোমবার সংসদে বিরোধীরা এই দাবি তুলবে।

    ৩. আন্দোলনের সূত্রপাত কী নিয়ে?

    NEET প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে ছাত্রছাত্রীরা দিল্লিতে 'সংসদ চলো' কর্মসূচি পালন করেন।

    ৪. পুলিশের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ উঠেছে?

    অভিযোগ, আন্দোলনরত ছাত্রছাত্রীদের উপর লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাসের শেল ব্যবহার এবং অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে। বিরোধীরা পেলেট গান ব্যবহারেরও অভিযোগ করেছে।

    ৫. দিল্লি পুলিশের বক্তব্য কী?

    দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। RAF এখনও এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেনি।

    ৬. প্রশ্নফাঁস রোধে সরকারের নতুন পদক্ষেপ কী?

    লোকসভায় Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Amendment Bill, 2026 পেশ করা হচ্ছে, যাতে শাস্তি আরও কঠোর করার প্রস্তাব রয়েছে।

    ৭. নতুন সংশোধনীতে কী কী শাস্তির প্রস্তাব রয়েছে?

    প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির ক্ষেত্রে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    ৮. বিরোধীদের মূল অভিযোগ কী?

    বিরোধীদের দাবি, নতুন আইন আনার প্রয়োজন নেই; ২০২৪-এর আইনই সরকার কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সমস্যার মূল কারণ রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব।

  • Link to this news (এই সময়)