• ‘ভারতে যুগে যুগে...’, LGBTQ+ সম্প্রদায়কে নিয়ে মুখ খুুললেন মোহন ভাগবত, কী বললেন তিনি?
    এই সময় | ২৭ জুলাই ২০২৬
  • দিল্লির যন্তর মন্তরের ছাত্র আন্দোলনে LGBTQ+ সম্প্রদায়ের অনেকেই যোগ দিয়েছিলেন। সেই নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। রবিবার হায়দরাবাদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই ইস্যুতে বড় বার্তা দিলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত। সরাসরি বলে দিলেন, ‘ভারতে যুগে যুগে LGBTQ+-রা ছিলেন। তাঁরাও মানুষ।’

    রূপান্তরকামী বা সমকামী মানুষদের একঘরে করে রাখা বা সমাজচ্যুত করার প্রবণতাকে একহাত নিয়েছেন তিনি। ভাগবতের কথায়, ‘আমাদের সনাতন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য তাঁদের অস্তিত্বকে স্বীকার করে। তাঁদের বাচার অধিকার রয়েছে। সমাজের বৃহত্তর পরিসরে তাঁদেরও একটা স্থান রয়েছে।’ ভারতীয় সমাজ বরাবরই সংযত ও সহানুভূতিশীল মনোভাব দেখিয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ভাগবত বলেন, ‘আজও তাঁদের নিজস্ব দেবতা, উপাসনাস্থল এবং মহামণ্ডলেশ্বর রয়েছেন। তাঁরা কুম্ভ মেলাতেও অংশ নেন।’

    এ বারই প্রথম নয়। ২০২৩-এর জানুয়ারিতে আরএসএস-ঘনিষ্ঠ একটি পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভাগবত বলেছিলেন, ‘LGBTQ+ মানুষেদেরও নিজস্ব ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিসর থাকা উচিত। কারণ তাঁরাও মানুষ। অন্যদের মতোই বাঁচার অধিকার তাঁদেরও রয়েছে।’ হিন্দু ধর্মগ্রন্থ ও পুরাণ থেকে একাধিক উদাহরণ দিয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, ‘ভারতীয় সভ্যতা অতীতেও এই ধরনের সম্প্রদায়কে সমাজের অংশ হিসেবেই গ্রহণ করেছে। কখনও বর্জন করেনি।’

    উল্লেখ্য, ২০১৮-য় ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তবে সমলিঙ্গের বিয়ে এবং LGBTQ+ সম্প্রদায়ের আরও কয়েকটি অধিকার এখনও আইনি স্বীকৃতি পায়নি। ২০১৯-এর অক্টোবরেও একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে ভাগবত বলেছিলেন, ‘এটিকে অযথা ইস্যু বানিয়ে কোনও লাভ নেই। সমাজকে সময়ের সঙ্গে বদলাতে হবে।’ মহাভারতের শিখণ্ডীর উদাহরণও দিয়ে বলেছিলেন, ‘লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্য ভারতীয় সমাজে বহুদিন ধরেই রয়েছে।’

    মোহন ভাগবতের মন্তব্য নতুন কিছু নয়। এটাই আরএসএসের দীর্ঘদিনের অবস্থান। সমলিঙ্গের সম্পর্ককে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার রায়কেও স্বাগত জানিয়েছিল সঙ্ঘ। তবে একই সঙ্গে সংগঠনটি জানিয়েছিল, তাদের মতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক ‘স্বাভাবিক নয়’। সেই সময় আরএসএসের মুখপাত্র অরুণ কুমার বলেছিলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মতো আমরাও মনে করি, একই লিঙ্গের প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্মতিসূচক যৌন সম্পর্ক কোনও অপরাধ নয়।’

    ১. মোহন ভাগবত LGBTQ+ সম্প্রদায় সম্পর্কে কী বলেছেন?

    তিনি বলেছেন, LGBTQ+ সম্প্রদায়ের মানুষ বরাবরই ভারতীয় সমাজের অংশ এবং তাঁদেরও সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে।

    ২. তিনি কেন সনাতন ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেছেন?

    ভাগবতের দাবি, ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এই সম্প্রদায়ের অস্তিত্বকে স্বীকার করে এবং সমাজে তাঁদের জন্য স্থান রেখেছে।

    ৩. এটি কি তাঁর নতুন অবস্থান?

    না। ২০১৯ ও ২০২৩ সালেও তিনি একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন এবং LGBTQ+ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক পরিসরের পক্ষে সওয়াল করেছিলেন।

    ৪. ভারতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক কি বৈধ?

    হ্যাঁ। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতিতে সমলিঙ্গের সম্পর্ক অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

    ৫. সমলিঙ্গের বিয়ে কি ভারতে বৈধ?

    না। বর্তমানে ভারতে সমলিঙ্গের বিয়ে আইনি স্বীকৃতি পায়নি।

    ৬. আরএসএসের সরকারি অবস্থান কী?

    আরএসএস জানিয়েছে, সম্মতিসূচক সমলিঙ্গের সম্পর্ক অপরাধ নয়। তবে সমলিঙ্গের বিয়ের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত সংসদের আলোচনার মাধ্যমেই হওয়া উচিত বলে তাদের মত।

  • Link to this news (এই সময়)